হিমাচলে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে এখনও মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব আসেনি রজনী পাটিল

হিমাচল কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত নেত্রী রজনী পাটিল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে এখনও কোনও প্রস্তাব আসেনি। সংগঠন, শৃঙ্খলা, SIR এবং ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।
হিমাচলে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে এখনও মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব আসেনি রজনী পাটিল
Photo Credit / Attribution: Google

হিমাচল প্রদেশে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে গত কিছু সময় ধরে চলা আলোচনার মধ্যে কংগ্রেসের রাজ্য ভারপ্রাপ্ত নেত্রী রজনী পাটিল পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। শিমলার কংগ্রেস সদর দফতর রাজীব ভবনে ধারাবাহিক বৈঠকের পর রজনী পাটিল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে এখনও তাঁর কাছে কোনও প্রস্তাব পাঠাননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসার পরই এই বিষয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে আপাতত মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে চলা জল্পনার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।

রজনী পাটিল আরও বলেন, দলীয় সংগঠন এবং সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেসের বৈঠকে সংগঠনের কাজকর্ম, জেলা ও ব্লক স্তরের কার্যক্রম, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং দলের অভ্যন্তরে সামনে আসা অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাঁর মতে, বিপুল সংখ্যক জেলা সভাপতি ব্লক স্তরে সমন্বয় ও যোগাযোগের সমস্যার অভিযোগ করেছেন। সংগঠনগত শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, দলের অভ্যন্তরে কোনও ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হবে না।

এই প্রসঙ্গেই তিনি হিমাচল সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী জগত সিং নেগির সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান। রজনী পাটিল বলেন, সংগঠন সৃজন অভিযানসহ দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে নেতাদের প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংযম বজায় রাখা উচিত। তিনি নেগিকে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন এবং ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা সংক্রান্ত এমন পরিস্থিতি আবার সামনে এলে সংগঠন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে পাটিল এও বলেন, কোনও বড় সংগঠনে মতপার্থক্য বা পারস্পরিক টানাপোড়েন সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক নয় এবং সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়ে এর আগেও হিমাচল কংগ্রেসে একাধিক দফায় আলোচনা সামনে এসেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে দলীয় হাইকমান্ড স্তরে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল এবং মন্ত্রীদের কাজের বিষয়ে প্রতিক্রিয়াও নেওয়া হচ্ছিল। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলীয় নেতৃত্ব মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতার রিপোর্ট কার্ড চেয়েছিল, যার কারণে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আরও কিছু রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে মুখ্য সচেতক এবং বিধানসভার উপাধ্যক্ষের মতো পদে নিয়োগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এই নিয়োগগুলির ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় নেতৃত্বের স্তরে হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ফলে রজনী পাটিলের এই বক্তব্য যে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রস্তাব আসেনি, তা থেকে বোঝা যায় যে আপাতত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

রজনী পাটিল দলের আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস ২০২৭ সালের হিমাচল বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে সক্রিয় করা শুরু করেছে। আগামী সময়ে দল জনসাধারণের মধ্যে তাদের কর্মসূচি ও বিষয়গুলি নিয়ে যাবে। তিনি পেপার লিক সংক্রান্ত ঘটনাগুলিকেও যুবকদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, এই ঘটনাগুলির যুবকদের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে। তাঁর এই পরিসংখ্যান ও দাবিগুলিকে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত।

হিমাচল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা অর্থাৎ SIR-এর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস শিমলায় নির্বাচন দফতরের কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করেছিল। দলীয় নেতারা SIR প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এই বিষয়েই রজনী পাটিল সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে EVM ব্যবহারের বিরুদ্ধে দাবি জানানোর কথা বলেন। তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির মধ্যে আঁতাতের অভিযোগও তোলেন। এগুলি কংগ্রেস নেত্রীর করা রাজনৈতিক অভিযোগ; এগুলিকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে SIR এবং এর আওতায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে পৃথক অবস্থানও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন বলেছে যে কমিশনের মধ্যে বিভিন্ন মতামত ও মন্তব্য প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার অংশ এবং SIR-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের সম্মতিতে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী কিছু সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এই পুরো বিতর্কে রাজনৈতিক অভিযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানকে পৃথকভাবে দেখা প্রয়োজন।

রজনী পাটিল বলেন, ভোটার তালিকা এবং কথিত ভোট চুরির বিষয় নিয়ে কংগ্রেস তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি সোমবার হিমাচল প্রদেশের সমস্ত জেলা সদর দফতরে বিক্ষোভ করার কথাও বলেন। এর ফলে নির্বাচন কমিশন এবং SIR-এর বিষয়টি আগামী দিনগুলিতে হিমাচল কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিতে পারে।

অন্যদিকে, হিমাচলে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়টি দলীয় সংগঠন ও সরকারের মধ্যে আলাদা স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আঞ্চলিক ভারসাম্য, মহিলা প্রতিনিধিত্ব এবং সম্ভাব্য নতুন মুখ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কংগ্রেসের ৪০ জন বিধায়কের মধ্যে মহিলা প্রতিনিধিত্ব নিয়েও আলোচনা সামনে এসেছিল। তবে কে মন্ত্রী হবেন, কে কোন দফতর পাবেন বা কবে সম্প্রসারণ হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা সামনে আসেনি।

রজনী পাটিলের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর আপাতত এতটাই স্পষ্ট যে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসার পরই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া এগোবে। একই সঙ্গে দলীয় নেতৃত্ব সংগঠনের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা এবং নেতাদের প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়েও নজর রাখছে। মন্ত্রী জগত সিং নেগিকে দেওয়া প্রকাশ্য পরামর্শকে এই বৃহত্তর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহিমাচলে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব এখনও আসেনি: রজনী পাটিল
ন্ত্রিসভায় নতুন মুখ নিয়ে চূড়ান্ত চিত্র মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব এবং দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে।

Leave a comment