হিমাচল প্রদেশের সরকারি কর্মীদের দীপাবলির আগে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু। মান্ডি জেলার বলহ বিধানসভা এলাকায় আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, দীপাবলির আগেই কর্মীদের ডিএ প্রদান করা হবে।
কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া আর্থিক দায় নিয়ে সংগঠনগুলি সরকারের কাছে নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে। বলহের কংসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী কর্মীদের বকেয়া আর্থিক দায়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কর্মীদের নিজেদের আর্থিক দায় নিয়ে আন্দোলন করা তাদের দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত হতে পারে, তবে কর্মীদের রাজ্যের স্বার্থের কথাও বিবেচনা করা উচিত। এই সময়ই তিনি দীপাবলির আগে ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করেন।
আগস্টে হিমাচল প্রদেশ যুক্ত কর্মচারী মহাসঙ্ঘও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বকেয়া ডিএর বিষয়টি উত্থাপন করেছিল এবং অন্তত ৫ শতাংশ ডিএর একটি কিস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল।
হিমাচলের কর্মীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সুবিধার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগস্টে কর্মচারী মহাসঙ্ঘ দাবি করেছিল, কর্মীদের প্রায় ১৬ শতাংশ ডিএ বকেয়া রয়েছে। সংগঠনটি সরকারের কাছে বিধানসভা অধিবেশনের সময় অন্তত ৫ শতাংশ ডিএর একটি কিস্তি দেওয়ার আবেদন করেছিল।
এখন মুখ্যমন্ত্রীর দীপাবলির আগে ডিএ দেওয়ার ঘোষণার পর কর্মীদের নজর থাকবে কিস্তির পরিমাণ এবং সরকার কবে এর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার দিকে।
মুখ্যমন্ত্রীর মান্ডি সফরে কর্মীদের জন্য ঘোষণার পাশাপাশি বলহ এলাকার উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার ঘোষণা করা হয়েছে। গুরু কোঠায় সিবিএসই স্কুল খোলার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া জলশক্তি বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের মণ্ডল কার্যালয় স্থাপনের কথা জানানো হয়েছে। এলাকায় ডিএসপি কার্যালয় খোলার ঘোষণাও করা হয়েছে।
বলহ এলাকার সড়ক উন্নয়নের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৩ কোটি টাকা অনুমোদনের ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোন কোন সড়কে এই অর্থে কাজ হবে এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এলাকা কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।
জনসভায় ‘সুখী পরিবার’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিবর্তনের ঘোষণাও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রকল্পের আওতায় এক দিনের মনরেগা মজুরি এবং বার্ষিক আয়ের যোগ্যতার সীমা ৭৫ হাজার টাকা করা হবে। প্রকল্পের নতুন মানদণ্ড এবং সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২৬ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর মান্ডি সফর হয়। জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর বলহ বিধানসভা এলাকার কংসা ময়দানে পৌঁছে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সফর নিয়ে জেলাশাসক অপূর্ব দেবগনও তথ্য দিয়েছিলেন।
বলহ সফরের আগে কৃষক সংগঠনগুলিও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নিজেদের দাবি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিল। হিমাচল কিষান ইউনিয়ন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এলাকার একাধিক দাবি উপস্থাপনের কথা জানিয়েছিল। দাবিগুলির মধ্যে কৃষকদের জন্য বাজার ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, সুকেতি খাড্ডের তীর সংরক্ষণ, টমেটোভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট, কৃষকদের ঋণ সংক্রান্ত বিষয়, কৃষি বিভাগে শূন্যপদ পূরণ এবং অন্যান্য স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পূর্ববর্তী বিজেপি সরকার এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুরকে নিয়েও রাজনৈতিক মন্তব্য করেন। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যকে ঋণের বোঝায় ফেলে দেওয়া এবং উন্নয়নমূলক কাজে আঞ্চলিক বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দাবিও করেন। এগুলি মুখ্যমন্ত্রী সুখুর রাজনৈতিক বক্তব্য এবং তাঁর বক্তব্য হিসেবেই দেখা উচিত।
মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্র সরকার এবং হিমাচল-সংক্রান্ত বিজেপি সাংসদদের নিয়েও মন্তব্য করেন। অগ্নিবীর প্রকল্প এবং রাজ্যের স্বার্থ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি কেন্দ্রকে প্রশ্ন করেন। এছাড়া তিনি বলহ এলাকার স্থানীয় রাজনীতির উল্লেখ করে প্রাক্তন বিধায়ক প্রকাশ চৌধুরীর সমর্থনে বক্তব্য রাখেন। এই রাজনৈতিক মন্তব্যগুলি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের অংশ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই পৃথক তথ্য ও সরকারি নথির ভিত্তিতে করা প্রয়োজন।
কর্মীদের ডিএ দেওয়ার ঘোষণা এমন সময়ে হয়েছে, যখন রাজ্যের কর্মচারী সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের আর্থিক সুবিধা এবং বকেয়া দায় নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। আগস্টে কর্মচারী মহাসঙ্ঘ সরকারকে সতর্ক করেছিল যে কর্মীদের দাবিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ না হলে সংগঠন পরবর্তী কৌশল নিয়ে বিবেচনা করবে। সংগঠনটি তাদের আন্দোলন গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল।
পেনশনভোগীদের আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়েও সেপ্টেম্বর মাসে সরকার অর্থপ্রদান নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া তৃতীয় শ্রেণির কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট পারিবারিক পেনশনভোগীদের বকেয়া পেনশন এরিয়ারের ৩০ শতাংশ অবশিষ্ট অর্থ দেওয়ার নির্দেশ সামনে এসেছে।
একই সময়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত এরিয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মী ও পেনশনভোগীদের সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর আর্থিক দায়ের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বলহে ডিএসপি কার্যালয় খোলার ঘোষণার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এলাকাভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক ঘোষণা করেছেন। সিবিএসই স্কুল, জলশক্তি ও বিদ্যুৎ বিভাগের মণ্ডল কার্যালয় এবং পুলিশ কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন পরিষেবার জন্য অন্য এলাকার ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তবে এসব ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন, বাজেট, ভবনসহ অন্যান্য ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর মান্ডি সফরে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের কর্মসূচিও ছিল। নেরচৌক মেডিকেল কলেজে ৩-টেসলা এমআরআই এবং টারশিয়ারি কেয়ার ক্যানসার সেন্টার উদ্বোধনের তথ্যও সফরের কর্মসূচিতে দেওয়া হয়েছিল।
দীপাবলির আগে ডিএ দেওয়ার ঘোষণা এখন হিমাচলের সরকারি কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঘোষণা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে কর্মীদের প্রকৃত আর্থিক সুবিধা তাঁদের বেতন, ডিএর সংশ্লিষ্ট কিস্তি এবং সরকারের জারি করা আনুষ্ঠানিক আদেশের ওপর নির্ভর করবে। অর্থপ্রদানের তারিখ, কিস্তির হার এবং যোগ্য কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য সরকারি আদেশ জারির পরই সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট হবে।
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর কর্মী ও তাঁদের সংগঠনগুলির মধ্যে বকেয়া আর্থিক দায় মেটানোর প্রক্রিয়া এগোনোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বলহ এলাকার জন্য ডিএসপি কার্যালয়, সিবিএসই স্কুল, বিভিন্ন বিভাগের মণ্ডল কার্যালয় এবং সড়ক উন্নয়নে ৩ কোটি টাকা অনুমোদনের মতো ঘোষণাগুলি স্থানীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বিষয়কে সামনে এনেছে। এসব ঘোষণার বাস্তব প্রভাব সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন এবং সময়সীমার ওপর নির্ভর করবে।










