উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে ফের ধসের আতঙ্ক। দার্জিলিং শহরের অদূরে তাকদা পর্যটনকেন্দ্রে শুক্রবার গভীর রাতে হাসপাতাল চত্বরে ধস নামে। ধসের জেরে তাকদার ভরসা গ্রামীণ হাসপাতালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আচমকা এই ঘটনায় হাসপাতালের রোগী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নিরাপত্তার কারণে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অন্যত্র সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গভীর রাতে হাসপাতাল চত্বরে ধস
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ তাকদা হাসপাতাল চত্বরে ধস নামে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে এই ধস নেমেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। ধসের ধাক্কায় হাসপাতালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
আহত কয়েকজন, হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে
ধসের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার দাবি অনুযায়ী, আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী নন, তাঁরা রোগীদের পরিবারের সদস্য।ইতিমধ্যেই দু’জন আহতকে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
নিরাপত্তায় রোগীদের সরানোর সিদ্ধান্ত
হাসপাতালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদেরও দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়েছে।পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল অংশে মেরামতির কাজও শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সিকিমেও ধস, চাপা পড়েছে বাড়ি
লাগাতার বৃষ্টির প্রভাব শুধু দার্জিলিংয়ে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশী সিকিমের পশ্চিম অংশেও ধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। পশ্চিম সিকিমের ইয়ুকসাম-তাশিডিং বিধানসভা এলাকার রিম্বি গ্রামে একাধিক বাড়ি ও সরকারি আবাসন ধসের মাটির নিচে চাপা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।তবে ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।

পাহাড়ে বাড়ছে ধসের আশঙ্কা
দার্জিলিং থেকে সিকিম—পাহাড়ের একাধিক এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে ধসের ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে ধসপ্রবণ এলাকায় রাস্তা, বাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর নজর রাখা হচ্ছে।প্রশাসনের তরফে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী ও যাতায়াতকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির সময় ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল বা ধসপ্রবণ এলাকার কাছাকাছি না যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হচ্ছে।

টানা দু’দিনের প্রবল বৃষ্টিতে দার্জিলিংয়ের তাকদা এলাকায় বড়সড় ধস নামে। শুক্রবার গভীর রাতে হাসপাতাল চত্বরে ধস নেমে ভরসা গ্রামীণ হাসপাতালের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রোগীদের দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ করেছে প্রশাসন।










