গরম ভাত, এক চামচ Ghee আর কাঁচা লঙ্কা—এই সহজ কম্বিনেশনেই লুকিয়ে থাকে বাঙালির অমলিন স্বাদ। কিন্তু এখন বাজারে খাঁটি ঘি পাওয়া বেশ কঠিন। অনেক সময় বেশি দামে কেনা ঘিতেও থাকে রাসায়নিকের গন্ধ বা ভেজালের আশঙ্কা। তাই অনেকেই এখন ঘরে বসেই তৈরি করছেন খাঁটি ঘি। কীভাবে বানাবেন? জেনে নিন সহজ পদ্ধতি।
ভালো ঘির প্রথম শর্ত ভালো দুধ
ঘি তৈরির মূল উপাদান হল দুধ। তাই যত ভালো দুধ ব্যবহার করবেন, ঘিও তত ভালো হবে। ঘি বানানোর জন্য সবসময় ফুল-ফ্যাট গরুর দুধ ব্যবহার করা উচিত। টোনড বা ডাবল টোনড দুধে ফ্যাট কম থাকায় ঘি কম হয় এবং স্বাদও তেমন আসে না। সম্ভব হলে দেশি গরুর টাটকা দুধ ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
সর বা মালাই জমিয়ে রাখুন
ঘি তৈরির জন্য প্রয়োজন দুধের ওপর জমা সর বা মালাই। প্রতিদিন দুধ ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিন। কয়েক ঘণ্টা পরে দুধের ওপরে মোটা সর জমবে। সেই সর তুলে একটি পরিষ্কার বায়ুরোধী পাত্রে জমিয়ে রাখুন। এভাবে ৫–৭ দিন সর জমালে ঘি তৈরির মতো পর্যাপ্ত ক্রিম হয়ে যাবে।
মালাই থেকে তৈরি করুন মাখন
জমিয়ে রাখা মালাই ফ্রিজ থেকে বের করে ঘরের তাপমাত্রায় আনুন। এরপর মিক্সার বা হ্যান্ড বিটার দিয়ে ভালোভাবে ফেটান। কিছুক্ষণ পরে দেখবেন জল এবং মাখন আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এই মাখনই হল ঘি তৈরির মূল উপাদান। মাখন ঠান্ডা জলে দু-তিনবার ধুয়ে নিলে ঘি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
ধীর আঁচেই তৈরি হবে সুগন্ধি ঘি
পরিষ্কার মাখন একটি ভারী তলার কড়াইতে দিয়ে ধীরে ধীরে গরম করুন। মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন। কিছু সময় পরে মাখন গলে ফেনা উঠবে এবং ধীরে ধীরে স্বচ্ছ ঘিতে পরিণত হবে। যখন কড়াইয়ের নিচের তলানি সোনালি হয়ে যাবে এবং সুন্দর গন্ধ বেরোবে, তখন বুঝবেন ঘি তৈরি।
গন্ধ বাড়াতে ছোট্ট টিপস
ঘি তৈরি হওয়ার শেষ মুহূর্তে একটি তেজপাতা বা সামান্য এলাচ দিয়ে দিতে পারেন। এতে ঘির সুগন্ধ আরও বাড়বে। এরপর ঘি ছেঁকে কাচের পাত্রে সংরক্ষণ করলে কয়েক মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে।
বাজারে খাঁটি ঘি পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক সময় বেশি দাম দিয়েও ভেজাল ঘি কিনতে হচ্ছে। অথচ সামান্য সময় আর ধৈর্য থাকলে বাড়িতেই তৈরি করা যায় খাঁটি, সুগন্ধি ঘি। কয়েকটি সহজ ধাপ মেনে চললেই রান্নাঘর ভরে উঠবে আসল ঘির মনমাতানো গন্ধে।













