ফলের গায়ে ‘বিষাক্ত’ ফরমালিন! মুখে তোলার আগে জানুন সঠিক পরিষ্কারের টেকনিক, ১৫ মিনিটেই তাড়ান কেমিক্যাল

ফলের গায়ে ‘বিষাক্ত’ ফরমালিন! মুখে তোলার আগে জানুন সঠিক পরিষ্কারের টেকনিক, ১৫ মিনিটেই তাড়ান কেমিক্যাল

নিপা ভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই নতুন করে ভয় বাড়াচ্ছে খাবারে ভেজাল। বিশেষ করে ফলের গায়ে থাকা ফরমালিন নিয়ে চিন্তায় সাধারণ মানুষ। চিকিৎসক ও গবেষণায় উঠে আসা কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললে কিন্তু এই ‘নীরব বিষ’ থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া সম্ভব।

ফলেই নয়, সর্বত্র ভেজালের ভয়

বর্তমানে শুধু ফল নয়, শাকসবজি এমনকি মাছেও ফরমালিন মেশানোর অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন টাটকা রাখার লোভে কিছু অসাধু বিক্রেতা এই ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করেন বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

ফরমালিন কেন বিপজ্জনক?

ফরমালিন একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক। দীর্ঘদিন শরীরে প্রবেশ করলে এটি শ্বাসযন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই বাজার থেকে আনা খাবার সরাসরি খাওয়া মারাত্মক হতে পারে।

চকচকে ফল দেখেই সাবধান

শীতের মরশুমে আপেল, কমলালেবু, বেদানা, নাশপাতির মতো ফল বাজার ভরিয়ে দেয়। অতিরিক্ত চকচকে ও দীর্ঘদিন না পচা ফল দেখলেই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

ভিনেগারেই ম্যাজিক!

গবেষণা অনুযায়ী,

জল ও ভিনেগারের মিশ্রণে ফল বা শাকসবজি ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে প্রায় সম্পূর্ণ ফরমালিন দূর হতে পারে।

অনুপাত: ১ লিটার জলে ২–৩ চামচ ভিনেগার যথেষ্ট।

ভিনেগার না থাকলে কী করবেন?

ভিনেগার না পেলে—

হালকা লবণাক্ত জলে ফল ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন

এতেও ফরমালিনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

মাছ পরিষ্কারের আলাদা নিয়ম

ফরমালিন শুধু ফলে নয়, মাছেও মেশানো হয় বলে অভিযোগ।

পরিষ্কার জলে মাছ ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে প্রায় ৬০% ফরমালিন কমে

লবণ জলে ভিজিয়ে রাখলে এই হার ৯০% পর্যন্ত পৌঁছতে পারে

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

কোঝিকোড়ের সিনিয়র প্যাথলজিস্ট ডা. নীনা ম্যাম্পিলির মতে, ফল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অত্যন্ত জরুরি। তবে খাওয়ার আগে সঠিকভাবে ধোয়া ও পরিষ্কার করাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

বাজারের চকচকে ফল মানেই কি নিরাপদ? ফরমালিন আতঙ্কে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। ভিনেগার, লবণ জল ও সাধারণ জলের সাহায্যে কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে ফল, শাকসবজি ও মাছ থেকে ফরমালিন অনেকটাই দূর করা সম্ভব—জানুন সহজ পদ্ধতি।

Leave a comment