কাঁচা আম কিনে তাড়াতাড়ি পাকানোর জন্য রাসায়নিক ব্যবহারের কোনও প্রয়োজন নেই। বাড়ির সাধারণ জিনিস দিয়েই প্রাকৃতিকভাবে আম পাকানো সম্ভব। শুধু কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে আমকে কাগজে মুড়ে উপযুক্ত পরিবেশে রাখলেই কয়েক দিনের মধ্যে পাকা, সুগন্ধি ও রসাল আম পেতে পারেন।
আম পাকানোর আগে যা করবেন
বাজার থেকে কাঁচা আম আনার পর প্রথমেই পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন। এরপর শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে আমের গা ভালোভাবে মুছে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। আমের গায়ে জল বা অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকলে ছত্রাক ধরার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। কোনও আম যদি আগে থেকেই থেঁতলানো বা পচা থাকে, সেটি আলাদা করে রাখাই ভাল।
কাগজে মুড়েই বাড়বে পাকার গতি
প্রাকৃতিকভাবে আম পাকানোর অন্যতম সহজ উপায় হল প্রতিটি আম আলাদা করে পরিষ্কার কাগজে হালকা করে মুড়ে রাখা। আম থেকে স্বাভাবিকভাবে নির্গত ইথিলিন গ্যাস পাকার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। কাগজে মোড়ানো থাকলে এই গ্যাস আমের চারপাশে কিছুটা আটকে থাকে, ফলে পাকতে সুবিধা হয়।তবে কাগজ এত শক্ত করে জড়াবেন না যাতে বাতাস চলাচলের কোনও সুযোগ না থাকে। পরিষ্কার কাগজ ব্যবহার করাই ভাল।
চাল বা গমের মধ্যে রাখলেও মিলতে পারে ভাল ফল
কাগজে মোড়ানো আম একটি কার্ডবোর্ডের বাক্স, বাঁশের ঝুড়ি বা উপযুক্ত পাত্রে রাখা যেতে পারে। কেউ কেউ আমের চারপাশে চাল বা গম ব্যবহার করেন। এরপর পাত্রটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখুন।ফ্রিজে বা অতিরিক্ত ঠান্ডা জায়গায় কাঁচা আম রাখবেন না। আবার সরাসরি প্রখর রোদেও রাখার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক উষ্ণ পরিবেশে রাখলে সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই আম পাকতে শুরু করে।
৩-৫ দিন পর থেকেই পরীক্ষা করুন
আম রেখে একেবারে ভুলে গেলে চলবে না। দুই-তিন দিন অন্তর আমগুলো দেখে নিন। যে আমের রং বদলাতে শুরু করেছে এবং হালকা চাপ দিলে সামান্য নরম লাগছে, সেটি পাকার পথে রয়েছে।কোনও আমে পচন বা ছত্রাকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সেটি আলাদা করে ফেলুন। একটি নষ্ট আম কাছাকাছি থাকা অন্য আমগুলিকেও নষ্ট করে দিতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন আম পেকে গিয়েছে?
পাকা আম সাধারণত সামান্য নরম হয় এবং জাতভেদে হলুদ বা সোনালি আভা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধ। আম একেবারে শক্ত থাকলে সেটি এখনও কাঁচা হতে পারে। আবার অত্যধিক নরম হয়ে গেলে অতিরিক্ত পেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।পুরোপুরি পেকে গেলে দ্রুত খেয়ে নেওয়া ভাল। কিছুটা সময় সংরক্ষণ করতে হলে তখন ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।
রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে কেন সতর্কতা?
দ্রুত পাকানোর জন্য কিছু ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বাইরে থেকে এমন আম পাকা দেখালেও ভেতরের অংশ, স্বাদ বা গন্ধ সবসময় স্বাভাবিক নাও হতে পারে। তাই সম্ভব হলে নিরাপদ উৎস থেকে আম কিনে প্রাকৃতিকভাবে পাকানোই ভাল।
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের বাড়তি সুবিধা
স্বাভাবিকভাবে পাকলে আমে তার নিজস্ব মিষ্টি স্বাদ, সুগন্ধ এবং রসালো টেক্সচার তৈরি হয়। আমে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে। তবে অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভাল।
বাজারের রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে বাড়িতেই প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা আম পাকাতে পারেন। কাগজে মুড়ে সঠিক তাপমাত্রায় রাখলেই ধীরে ধীরে পেকে উঠবে আম। কীভাবে করবেন, কতদিন লাগবে এবং কোন ভুল এড়াবেন—জেনে নিন।













