বিদেশি পাখি বিক্রির আড়ালে চলছিল দেশীয় প্রজাতির অবাধ কেনাবেচা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে Howrah জেলার উলুবেড়িয়ায় ক্রেতা সেজে অভিযানে নামে পুলিশ। Uluberia Police Station ও Wildlife Environment Savior Trust-এর যৌথ তৎপরতায় উদ্ধার হয় ১৫টি পাহাড়ি চন্দনা টিয়া। গ্রেফতার করা হয়েছে এক অভিযুক্তকে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান
গত কয়েকদিন ধরেই পুলিশের কাছে খবর আসছিল—খোলা বাজারে দেশীয় পাখির রমরমা ব্যবসা চলছে। টিয়া, ময়না, শালিকের মতো সংরক্ষিত প্রজাতি বিক্রি হচ্ছিল প্রকাশ্যে। সূত্র পেয়ে উলুবেড়িয়া থানার একটি বিশেষ টিম পরিকল্পিতভাবে ক্রেতা সেজে পৌঁছে যায় বাজারপাড়ার এক বাড়িতে। সেখানেই ফাঁস হয় চোরাকারবারির চক্র।
বাড়ি থেকেই উদ্ধার ১৫ পাহাড়ি চন্দনা টিয়া
তল্লাশিতে ধরা পড়ে ১৫টি পাহাড়ি চন্দনা টিয়া, যাদের বৈজ্ঞানিক নাম Alexandrine Parakeet। খাঁচাবন্দি অবস্থায় রাখা ছিল পাখিগুলিকে। সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং খবর দেওয়া হয় বন দফতরকে। পরে বন দফতরের আধিকারিকরা এসে পাখিগুলিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রের ইঙ্গিত
ধৃত অভিযুক্ত অনুপ গায়েনকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পাঞ্জাব ও ঝাড়খণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে এইসব দেশীয় পাখি গোপনে নিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করা হত। বিদেশি পাখির নাম ভাঙিয়ে দেশীয় প্রজাতির চোরাবাজার চালানোই ছিল মূল কৌশল।
১৯৭২ সালের আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য অর্ঘ্য মল্লিক জানান, Wildlife Protection Act, 1972 অনুযায়ী টিয়া, ময়না, শালিক-সহ সমস্ত দেশীয় পাখি ধরা, পোষা বা বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনের আওতায় কড়া শাস্তির বিধান রয়েছে। ফলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।
আদালতে পেশ ও তদন্ত জোরদার
অভিযুক্তকে উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ ও বন দফতর যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে দেখছে এই পাচারচক্রে আর কারা যুক্ত রয়েছে। বড় কোনও আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় ক্রেতা সেজে পুলিশের অভিযানে ফাঁস বেআইনি পাখি ব্যবসা। উদ্ধার ১৫টি পাহাড়ি চন্দনা টিয়া (অ্যালেক্সান্দ্রিন প্যারাকীট)। গ্রেফতার এক আন্তঃরাজ্য পাচারকারী। বন দফতর ও পুলিশ যৌথ তদন্তে নামছে বড় চক্রের খোঁজে।










