নতুন অর্থবর্ষ শুরু হতেই দেশজুড়ে কার্যকর হচ্ছে একগুচ্ছ আর্থিক বিধি পরিবর্তন। কেন্দ্রের ঘোষিত Income Tax Act 2025-এর অধীনে আয়কর, প্যান, TDS/TCS, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিমা এবং শেয়ার বাজারে একাধিক নতুন নিয়ম চালু হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বদল মাসিক বাজেট, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ কৌশলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
প্যান লেনদেনে বড় স্বস্তি, সীমা বাড়ল
নতুন নিয়মে ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে নগদ জমা ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্যান দেখানোর সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি লেনদেনে প্যান বাধ্যতামূলক ছিল, এখন বছরে মোট ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদ জমা বা উত্তোলনে প্যানের প্রয়োজন হবে না। তবে ১০ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেন হলেই প্যান জমা বাধ্যতামূলক।হোটেল, রেস্তোরাঁ বা অনুষ্ঠান সংক্রান্ত খরচের ক্ষেত্রেও সীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ লক্ষ টাকার কম দামের গাড়ি কিনলেও আর প্যান দিতে হবে না—ফলে ছোট গাড়ি ক্রেতাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ হল।
সম্পত্তি কেনাবেচায় নতুন নিয়ম
আগে ১০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সম্পত্তি ক্রয়ে প্যান বাধ্যতামূলক ছিল। এখন সেই সীমা বাড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। ফলে ছোট বাজেটের ফ্ল্যাট বা বাড়ি ক্রেতারা বাড়তি সুবিধা পাবেন।এছাড়া NRI-র কাছ থেকে সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে TDS কাটার জন্য আলাদা TAN নম্বর নেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না। শুধুমাত্র PAN ব্যবহার করেই TDS কাটা যাবে। সীমান্তপারের সম্পত্তি লেনদেনে এর ফলে সময় ও জটিলতা কমবে।
বিমা ক্ষেত্রে কঠোরতা, ক্ষতিপূরণে স্বস্তি
এবার থেকে যে কোনও বিমা পলিসি কিনতে প্যান তথ্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ছোট-বড় সব ধরনের বিমায় এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।তবে বড় স্বস্তি মিলেছে Motor Accident Claims Tribunal (MACT) সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণে। আদালত নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের সুদের উপর আর কোনও আয়কর বা TDS ধার্য হবে না। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক স্বস্তি।
শেয়ার বাইব্যাকের কর কাঠামো বদল
এতদিন শেয়ার বাইব্যাক থেকে প্রাপ্ত অর্থকে ডিভিডেন্ড আয় হিসেবে ধরে কর ধার্য করা হত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে বাইব্যাকের অর্থকে ক্যাপিটাল গেইন হিসেবে গণ্য করা হবে।অর্থাৎ শেয়ার কত দামে কেনা হয়েছে এবং কতদিন ধরে রাখা হয়েছে, তার ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ অনুযায়ী কর নির্ধারিত হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের কর পরিকল্পনায় নতুন কৌশল নিতে হতে পারে।
ITR জমার সময়সীমায় পরিবর্তন
বাজেট ২০২৬ অনুযায়ী, যেসব ব্যবসা বা পেশা অডিটের আওতায় পড়ে না এবং ট্রাস্টগুলি, তারা এখন ৩১ জুলাইয়ের পরিবর্তে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ITR জমা দিতে পারবে। এই পরিবর্তন কার্যকর হবে FY ২০২৫-২৬ (AY ২০২৬-২৭) থেকে।তবে বেতনভোগী করদাতা ও যারা ITR-1 বা ITR-2 ফর্ম ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে শেষ তারিখ ৩১ জুলাইই থাকবে। অতিরিক্ত এক মাস সময় পাওয়ায় ছোট ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা স্বস্তি পাবেন।
১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হচ্ছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পরিবর্তন। নতুন আয়কর কাঠামো, প্যান ব্যবহারের সীমা বৃদ্ধি, সম্পত্তি ও বিমা সংক্রান্ত নিয়মে সংশোধন, শেয়ার বাইব্যাকে করের ধরনে বদল এবং ITR জমার সময়সীমায় বড় রদবদল—সব মিলিয়ে সাধারণ করদাতা থেকে বিনিয়োগকারী, সকলের আর্থিক পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে চলেছে।













