ভরা ইলিশের মরশুমেও সমুদ্রে বাধা! বারবার ফিরছে ট্রলার, অল্প মাছেই ঘাটে মৎস্যজীবীরা—কেন এমন পরিস্থিতি?

ভরা ইলিশের মরশুমে একের পর এক নিম্নচাপ ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে বিপাকে মৎস্যজীবীরা। কেন ট্রলার ২-৩ দিনের মধ্যেই ফিরছে, জানুন বিস্তারিত।

ভরা ইলিশের মরশুম, অথচ সমুদ্রই যেন মৎস্যজীবীদের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও নিম্নচাপ, কখনও উত্তাল সমুদ্র—পরপর খারাপ আবহাওয়ার কারণে বারবার ট্রলার ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে। মাছ ধরার জন্য প্রয়োজনীয় সময় সমুদ্রে থাকা যাচ্ছে না। ফলে ইলিশের আশায় সমুদ্রে পাড়ি দিয়েও অনেক সময় প্রত্যাশিত পরিমাণ মাছ নিয়ে ফিরতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

ভরা ইলিশের মরশুমেও সমুদ্রে বাধা! বারবার ফিরছে ট্রলার, অল্প মাছেই ঘাটে মৎস্যজীবীরা—কেন এমন পরিস্থিতি?
একের পর এক নিম্নচাপে বিপর্যস্ত মাছ ধরার পরিকল্পনা

বঙ্গোপসাগরে পরপর নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় সমুদ্রের পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে সতর্ক করা হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তার কারণেই মাছ ধরার কাজে সাময়িক বিরতি দিতে হচ্ছে।শুধু সমুদ্রেই নয়, নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কয়েক দিনের বেশি সমুদ্রে থাকতে পারছে না ট্রলার

মৎস্যজীবী সংগঠনের সভাপতি অলোক হালদারের বক্তব্য অনুযায়ী, এবছর বারবার আবহাওয়ার অবনতি মাছ ধরার কাজে বড় প্রভাব ফেলছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় ট্রলারগুলি টানা বেশিদিন মাছ ধরতে পারছে না।তাঁর দাবি, অনেক সময় ২-৩ দিনের মধ্যেই ট্রলারকে ফিরে আসতে হচ্ছে। ফলে সমুদ্রে পর্যাপ্ত সময় কাটিয়ে ইলিশ ধরার সুযোগ মিলছে না। স্বাভাবিকভাবেই ঘাটে ফিরতে হচ্ছে কম মাছ নিয়ে।

ভরা ইলিশের মরশুমেও সমুদ্রে বাধা! বারবার ফিরছে ট্রলার, অল্প মাছেই ঘাটে মৎস্যজীবীরা—কেন এমন পরিস্থিতি?
ইলিশের মরশুমে বাড়ছে আর্থিক চিন্তা

ইলিশ ধরার মরশুম মৎস্যজীবীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে ভালো মাছ উঠলে ট্রলার মালিক থেকে শুরু করে মৎস্যজীবী—সকলেরই আয় বাড়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু বারবার সমুদ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সেই সম্ভাবনাই ধাক্কা খাচ্ছে।ট্রলার চালাতে জ্বালানি, শ্রমিক, বরফ এবং অন্যান্য খরচ রয়েছে। অথচ কম মাছ নিয়ে ফিরে এলে সেই খরচের তুলনায় আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভরা ইলিশের মরশুমেও সমুদ্রে বাধা! বারবার ফিরছে ট্রলার, অল্প মাছেই ঘাটে মৎস্যজীবীরা—কেন এমন পরিস্থিতি?
সামনে কী পরিস্থিতি?

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে ইলিশ ধরার কাজে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। মৎস্যজীবীদের কাছে নিরাপত্তাই প্রথম বিষয়। তাই আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা মেনে সমুদ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।ফলে আবহাওয়া কবে স্থিতিশীল হয়, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকরা। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফের পুরোদমে সমুদ্রে গিয়ে ইলিশ ধরার সুযোগ তৈরি হবে—এমনটাই আশা তাঁদের।

ভরা ইলিশের মরশুমেও সমুদ্রে বাধা! বারবার ফিরছে ট্রলার, অল্প মাছেই ঘাটে মৎস্যজীবীরা—কেন এমন পরিস্থিতি?
ইলিশ ধরার ব্যস্ত মরশুমে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগরের প্রতিকূল আবহাওয়া। একের পর এক নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত সময় সমুদ্রে থাকতে না পেরে কম মাছ নিয়েই ঘাটে ফিরতে হচ্ছে ট্রলারগুলিকে। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় চিন্তায় পড়েছেন মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকরা।

Leave a comment