ভাই-বোন নয়, গাছের হাতেও রাখি! মালদহের খুদেদের অভিনব শপথ—‘একটিও গাছ কাটতে দেব না’

রাখিবন্ধনে গাছের গায়ে রাখি বেঁধে অভিনব বার্তা দিল মালদহের প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়ারা। গাছ বাঁচানো ও পরিবেশ রক্ষায় কী শপথ নিল তারা, জানুন।

রাখিবন্ধন মানেই সাধারণত ভাই-বোনের স্নেহ, ভালোবাসা ও সুরক্ষার প্রতীক। কিন্তু সেই পরিচিত উৎসবেই এবার অন্যরকম বার্তা ছড়াল মালদহে। ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার বদলে খুদে পড়ুয়ারা রাখি পরাল গাছকে। শুধু রাখি পরানো নয়, গাছের যত্ন নেওয়া এবং অকারণে গাছ কাটা বন্ধ করার শপথও নিল তারা। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার এমন মেলবন্ধন মন ছুঁয়েছে অনেকের।

ভাই-বোন নয়, গাছের হাতেও রাখি! মালদহের খুদেদের অভিনব শপথ—‘একটিও গাছ কাটতে দেব না’
গাছকেই পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ

মালদহ শহরের ললিত মোহন শ্যাম মোহিনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখিবন্ধন উপলক্ষে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় চত্বরে থাকা গাছগুলিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় অনুষ্ঠানের পরিবেশ।পড়ুয়ারা গাছের গায়ে যত্ন করে রাখি বাঁধে। তাদের কাছে গাছ শুধুমাত্র প্রকৃতির অংশ নয়, পরিবারের একজন সদস্যের মতো। সেই ভাবনা থেকেই গাছের সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করে তারা।

কী শপথ নিল খুদে পড়ুয়ারা?

গাছের গায়ে রাখি বাঁধার পর পড়ুয়ারা পরিবেশ রক্ষার একাধিক অঙ্গীকার করে। তাদের মূল বার্তা ছিল—

গাছকে ভালোবাসতে হবে।

নিয়মিত গাছের যত্ন নিতে হবে।

অকারণে গাছ কাটা যাবে না।

অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে হবে।

পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

অর্থাৎ রাখির বন্ধনকে শুধু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃতির সঙ্গেও দায়িত্বের সম্পর্ক তৈরি করার বার্তা দেওয়া হয়।

ভাই-বোন নয়, গাছের হাতেও রাখি! মালদহের খুদেদের অভিনব শপথ—‘একটিও গাছ কাটতে দেব না’
ছোটদের হাতেই পরিবেশ রক্ষার পাঠ

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পার্থ প্রধান জানান, পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। ছোট বয়স থেকেই শিশুদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা প্রয়োজন।এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে পড়ুয়ারা নিজেরাই পরিবেশ রক্ষার কাজে যুক্ত হতে শেখে। ভবিষ্যতে তারাই যেন নিজেদের পরিবার ও সমাজের অন্য মানুষকে গাছ বাঁচানোর বিষয়ে সচেতন করে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ বলে জানান তিনি।

গাছ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, জানে খুদেরাও

চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া প্রিয়ন সরকারও গাছকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছে। তার কথায়, গাছ মানুষের জন্য অক্সিজেন, ছায়া, ফল ও ফুলের জোগান দেয়। তাই গাছ বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও মানুষের।ছোট্ট পড়ুয়ার এই উপলব্ধিই যেন গোটা কর্মসূচির মূল বার্তাকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে—প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে শেষ পর্যন্ত নিজেদের ভবিষ্যৎকেই সুরক্ষিত করা।

ভাই-বোন নয়, গাছের হাতেও রাখি! মালদহের খুদেদের অভিনব শপথ—‘একটিও গাছ কাটতে দেব না’
প্রশংসা শিক্ষামহল ও পরিবেশপ্রেমীদের

খুদে পড়ুয়াদের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। শিক্ষামহল থেকে শুরু করে পরিবেশপ্রেমী মহল—সকলেই মনে করছেন, উৎসবের সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার এমন বার্তা শিশুদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।রাখির বন্ধনকে সামনে রেখে গাছের প্রতি দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি স্কুলের অনুষ্ঠান নয়, বরং পরিবেশ রক্ষার একটি সুন্দর সামাজিক বার্তাও হয়ে উঠেছে।

ভাই-বোন নয়, গাছের হাতেও রাখি! মালদহের খুদেদের অভিনব শপথ—‘একটিও গাছ কাটতে দেব না’
রাখিবন্ধনের দিনে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল মালদহের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। ভাই-বোনের পাশাপাশি গাছের গায়েও রাখি বেঁধে প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার অঙ্গীকার করল তারা। গাছকে পরিবারের সদস্যের মর্যাদা দিয়ে ছোট থেকেই পরিবেশ সচেতন হওয়ার এই উদ্যোগ নজর কেড়েছে।

Leave a comment