জুনের শুরুতেই উত্তরবঙ্গে চরম অস্বস্তিকর আবহাওয়া। সকাল থেকেই বাড়ছে তাপমাত্রা, দুপুরের দিকে পরিস্থিতি হয়ে উঠছে কার্যত অসহনীয়। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলিতে গরমের সঙ্গে আর্দ্রতার জোড়া প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তবে এই তীব্র গরমের মাঝেই কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)।
তাপমাত্রা ৩৫, কিন্তু অনুভূতি ৪৩ ডিগ্রিরও বেশি
উত্তরবঙ্গের তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। ফলে রাস্তায় বেরোলেই তীব্র অস্বস্তি অনুভব করছেন মানুষ। দুপুরের প্রখর রোদে সাধারণ কাজকর্মও কঠিন হয়ে পড়ছে।
জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ারে জনজীবন বিপর্যস্ত
জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের বাজার, রাস্তা এবং জনবহুল এলাকায় গরমের প্রভাব স্পষ্ট। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। শুধু মানুষ নয়, গরমে কাহিল হয়ে পড়ছে পশুপাখিরাও।
ফ্যান, কুলার ও ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা বেড়েছে
অস্বাভাবিক গরমের জেরে বাজারে হাই-স্পিড ফ্যান, কুলার এবং ঠান্ডা পানীয়ের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন এসব পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। গরম থেকে সামান্য স্বস্তি পেতেই মানুষ নানা উপায় খুঁজছেন।
পাহাড়েও মিলছে না স্বস্তি
সাধারণত শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত কালিম্পংয়েও এবার গরমের দাপট অনুভূত হচ্ছে। পর্যটকদের একাংশ জানিয়েছেন, পাহাড়ে গিয়েও প্রত্যাশিত ঠান্ডা আবহাওয়া মিলছে না। ফলে ভ্রমণের আনন্দেও কিছুটা ভাটা পড়েছে।
বর্ষা প্রবেশ করছে কেরলে, বাংলার দিকে নজর
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ জুন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু কেরলে প্রবেশ করতে চলেছে। এর মাধ্যমে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষার যাত্রা শুরু হবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমী বায়ু স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে এর প্রভাব বাড়তে পারে।
দক্ষিণ ভারতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
কেরল, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ৬ থেকে ৭ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কোথাও কোথাও ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। আরব সাগর থেকে প্রচুর আর্দ্রতা প্রবেশ করায় বর্ষার গতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকলেও আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে কালিম্পং— সর্বত্রই গরমে নাজেহাল মানুষ। এরই মধ্যে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৪ জুন কেরলে প্রবেশ করছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু, যা বর্ষার অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।









