প্রাক্তন সিবিএফসি চেয়ারম্যান ও চলচ্চিত্র প্রযোজক পহলাজ নিহালানির মৃত্যু, বয়স ৭৬

চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান পহলাজ নিহালানি ৭৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি কিছু সময় ধরে লিভার-সংক্রান্ত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক জনপ্রিয় হিন্দি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছিলেন।

মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৭৬ বছর। জানা গেছে, তিনি কিছু সময় ধরে লিভার-সংক্রান্ত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত প্রযোজকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পহলাজ নিহালানি। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে তিনি একাধিক বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন। তাঁর প্রযোজিত বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র বক্স অফিসে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি নতুন শিল্পীদেরও পরিচিতি এনে দেয়। তাঁর প্রযোজনা সংস্থার অধীনে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলি সে সময়ে মূলধারার বিনোদনের একটি স্বতন্ত্র ধারা উপস্থাপন করেছিল। তাঁর চলচ্চিত্রে মেলোড্রামা, সঙ্গীত এবং পারিবারিক বিনোদনের সমন্বয় দেখা যেত, যা সে সময়ের দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল।

পহলাজ নিহালানি একাধিক তারকার ক্যারিয়ারের প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন Akshay Kumar, Govinda এবং Sunny Deol। গোবিন্দার একাধিক প্রাথমিক চলচ্চিত্র তাঁকে ১৯৯০-এর দশকের সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করে। একইভাবে, অক্ষয় কুমারের প্রাথমিক পরিচিতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও পহলাজ নিহালানির নাম উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে আসে। তাঁর চলচ্চিত্রগুলি সে সময়ে অ্যাকশন ও কমেডির নতুন সংমিশ্রণ দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেছিল।

২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে পহলাজ নিহালানি Central Board of Film Certification-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি একাধিক সিদ্ধান্ত ও বিতর্কের কারণে আলোচনায় ছিলেন। তাঁর কার্যকালে চলচ্চিত্র শংসাপত্র প্রদান নীতি, সেন্সরশিপ নির্দেশিকা এবং চলচ্চিত্রে কাটছাঁট নিয়ে শিল্পমহলে ধারাবাহিক বিতর্ক চলতে থাকে। বহু চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সৃজনশীল পেশাজীবী তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আবার কিছু মানুষ তাঁর কঠোর অবস্থানকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে পহলাজ নিহালানি বহু আলোচিত চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ‘আঁখেঁ’, ‘আন্দাজ’, ‘ইলজাম’, ‘আগ কা গোলা’, ‘আঁধি-তুফান’, ‘তালাশ’, ‘হাতকড়ি’, ‘গুনাহোঁ কা ফয়সলা’, ‘পাপ কি দুনিয়া’, ‘মিট্টি অউর সোনা’ এবং ‘দিল তেরা দিওয়ানা’। এছাড়া পরবর্তী সময়ে ‘রঙ্গিলা রাজা’ এবং ‘জুলি ২’-এর মতো চলচ্চিত্রের মাধ্যমেও তিনি আলোচনায় আসেন। তাঁর চলচ্চিত্রগুলির প্রধান ঝোঁক ছিল বাণিজ্যিক ধারার সিনেমার দিকে, যেখানে বিনোদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো।

 

Leave a comment