ভারতের ১৬তম এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম জনগণনার প্রথম ধাপ ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে শুরু হয়েছে, যা প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
এই জনগণনায় প্রচলিত কাগজভিত্তিক ফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে না। গণনাকারীরা স্মার্টফোন-ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য ‘সেল্ফ-এনিউমারেশন’ (স্ব-গণনা) বিকল্প রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা অনলাইনে নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য নিজেই নিবন্ধন করতে পারবেন।
২০২৭ সালের জনগণনা দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হবে।
প্রথম ধাপ, ভবন তালিকাভুক্তকরণ ও আবাসন জনগণনা, যেখানে বাড়ির অবস্থা, উপলব্ধ সুবিধা, সম্পত্তি এবং অন্যান্য মৌলিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই প্রক্রিয়া এপ্রিল ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। প্রতিটি এলাকায় এই ধাপ শুরু হওয়ার ১৫ দিন আগে সেল্ফ-এনিউমারেশন বিকল্প চালু থাকবে।
দ্বিতীয় ধাপ, জনসংখ্যা গণনা, ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্যায়ে প্রতিটি ব্যক্তির জনমিতিক বিবরণ, শিক্ষার স্তর, সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা, অভিবাসন এবং প্রজনন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই ধাপে জাতিগত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
![]()
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জনগণনার সময়সূচি পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দিল্লি, গোয়া, কর্ণাটক, ওডিশা এবং সিকিমে ভবন তালিকাভুক্তকরণ ১৬ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চলবে। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং ছত্তীসগড়ে এই প্রক্রিয়া ১ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
জনগণনা ২০২৭-এর সাধারণ রেফারেন্স তারিখ ১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যরাত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশের তুষারাচ্ছন্ন ও দুর্গম অঞ্চলের জন্য পৃথক তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে ১ অক্টোবর ২০২৬-কে রেফারেন্স তারিখ হিসেবে ধরা হবে।
এই জনগণনা কার্যক্রমের জন্য কেন্দ্র সরকার প্রায় ১১,৭১৮ কোটি টাকা বাজেট অনুমোদন করেছে। এই অর্থ ডিজিটাল অবকাঠামো, মোবাইল অ্যাপ, তথ্য সুরক্ষা এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হবে। জনগণনা প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন পোর্টাল হিন্দি ও ইংরেজিসহ ১৬টি ভাষায় উপলব্ধ থাকবে।











