ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ড নারী দলকে ২৭০ রানের ব্যবধানে পরাজিত করেছে। লর্ডসে অনুষ্ঠিত প্রথম মহিলা টেস্টে এই জয়ের মাধ্যমে ভারত ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে।
ম্যাচটি একাধিক কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। লর্ডসের ১৪২ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি মহিলা টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সেই ঐতিহাসিক উপলক্ষে ভারতীয় দল জয় দিয়ে ম্যাচ শেষ করে।
ম্যাচে ভারত প্রথম ইনিংসে ২৮৫ রান করে। জবাবে ভারতীয় বোলারদের সামনে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লড়াই করলেও পুরো দল ১৭০ রানে অলআউট হয়ে যায়। প্রথম ইনিংসে ১১৫ রানের লিড পাওয়ার পর ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৪৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে এবং ইংল্যান্ডের সামনে ৪৫৭ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৩০ রান। চতুর্থ দিনে ভারতীয় বোলাররা দ্রুত বাকি চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৬ রানে অলআউট করে এবং ২৭০ রানের জয় নিশ্চিত করে।
![]()
ভারতের জয়ে বোলারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অভিজ্ঞ অফ-স্পিনার স্নেহ রানা দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে চাপে রাখেন। অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মাও তাঁর বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেন।
দুই বোলারের নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথের সামনে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি। এছাড়া পেসার ক্রান্তি গৌড় প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।
ভারতের ব্যাটিংয়ে উইকেটকিপার-ব্যাটার যাস্তিকা ভাটিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রানের শতক করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৪টি চার। এই শতকের মাধ্যমে তিনি লর্ডসে টেস্ট শতরান করা প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হন। তাঁর ইনিংস ভারতকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইংল্যান্ডের হয়ে সোফি এক্লেস্টোন ও অ্যামি জোন্স দলকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। এক্লেস্টোন একটি অর্ধশতক করেন এবং অ্যামি জোন্স ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন। তবে ভারতীয় বোলারদের ধারাবাহিক চাপে ইংল্যান্ড লক্ষ্য থেকে অনেক দূরেই থেমে যায়।
ভারতের এই জয়ের আগে ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমে উপস্থিত হন ভারতের সাবেক ব্যাটার সচিন তেন্ডুলকর। তিনি অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরসহ পুরো দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।








