বুধবার দুর্বল সূচনার পর ভারতীয় শেয়ারবাজারে দ্রুত পুনরুদ্ধার দেখা যায়। অটো ও মেটাল খাতের শেয়ারে কেনাকাটার জেরে সেনসেক্স ও নিফটি সবুজ চিহ্নে ফিরে আসে, তবে আইটি খাতে বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকে।
বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাজারের শুরুতে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। আগের দুই ট্রেডিং সেশনে তীব্র উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা এবং এশীয় বাজার থেকে মিশ্র সংকেতের প্রভাবে সূচকগুলো শুরুতে নিম্নমুখী ছিল। অটো ও মেটাল শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়তেই বাজারে সমর্থন তৈরি হয়, যদিও আইটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য বিক্রি বাজারের উপর চাপ বজায় রাখে।
মঙ্গলবারের বড় উত্থানের প্রভাব
মঙ্গলবার দেশীয় শেয়ারবাজারে জোরালো উত্থান দেখা যায়, যা গত আট মাসেরও বেশি সময়ে একদিনের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হয়। সেশনের এক পর্যায়ে সেনসেক্স ৪,০২৫ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়েছিল। শেষদিকে কিছু মুনাফা তুলে নেওয়া হলেও সেনসেক্স ২,০৭৩ পয়েন্ট বা প্রায় ২.৫ শতাংশ বেড়ে ৮৩,৭৩৯ পয়েন্টে বন্ধ হয়। নিফটি ৬৩৯ পয়েন্ট বা প্রায় ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫,৭২৮ স্তরে পৌঁছায়। এই উত্থানের পর স্বাভাবিক সংশোধনের সম্ভাবনা ছিল, যার প্রতিফলন বুধবারের প্রাথমিক লেনদেনে দেখা যায়।
দুর্বল ওপেনিংয়ের পর সেনসেক্সের পুনরুদ্ধার
বুধবার ৩০-শেয়ারের বিএসই সেনসেক্স ৪০০ পয়েন্টেরও বেশি পতন নিয়ে ৮৩,২৫২.০৬ স্তরে খুলে। শুরুতে চাপ স্পষ্ট থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অটো ও মেটাল শেয়ারে কেনাকাটা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনসেক্স দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। সকাল ৯টা ৩৩ মিনিটে সেনসেক্স ৯৯.৪৬ পয়েন্ট বা ০.১২ শতাংশ বেড়ে ৮৩,৮৩৮.৫৯ পয়েন্টে লেনদেন করতে দেখা যায়।
নিফটির গতি
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি-৫০ সূচকও নিম্নমুখী সূচনায় ২৫,৬৭৫-এর কাছাকাছি খোলে। প্রাথমিক চাপ কাটিয়ে সূচকটি দ্রুত স্থিতিশীল হয়। সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে নিফটি ৫৬.১৫ পয়েন্ট বা ০.২২ শতাংশ বেড়ে ২৫,৭২৮ পয়েন্টে লেনদেন করে।
খাতভিত্তিক প্রবণতা
দিনের লেনদেনে অটো ও মেটাল খাতের শেয়ারে কেনাকাটা লক্ষ্য করা যায়, যা সূচকের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। এর বিপরীতে আইটি খাতে বিক্রি অব্যাহত থাকে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি শেয়ারে দুর্বলতা এবং বিদেশি বাজার থেকে নেতিবাচক সংকেতের প্রভাব দেশীয় আইটি কোম্পানিগুলিতে প্রতিফলিত হয়।
বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব
মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী বন্ধ হয়। ডাও জোন্স ০.৩৪ শতাংশ কমে বন্ধ হয়, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৮৪ শতাংশ হ্রাস পায় এবং নাসডাক ১.৪৩ শতাংশ পড়ে যায়। প্রযুক্তি শেয়ারে এই দুর্বলতার প্রভাব এশীয় ও ভারতীয় বাজারে পড়ে।
এশীয় বাজারের মিশ্র ধারা
বুধবার সকালে এশীয় শেয়ারবাজারে স্পষ্ট দিকনির্দেশ দেখা যায়নি। চীনের সিএসআই ৩০০ সূচক ০.২৯ শতাংশ কমে, হংকংয়ের হ্যাং সেং ০.০৫ শতাংশ নিম্নে এবং জাপানের নিক্কেই ০.৬১ শতাংশ হ্রাস পায়। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ০.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
কমোডিটি বাজারের পরিস্থিতি
কমোডিটি বাজারে সোনা ও রুপোর দামে বৃদ্ধি দেখা যায়। স্পট সোনার দাম ১ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৫,০০২ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছায়। স্পট রুপো ০.৬৯ শতাংশ বেড়ে ৮৫.৭০ ডলার প্রতি আউন্সে লেনদেন করে।
অর্থনৈতিক তথ্য ও কর্পোরেট ফলাফল
বিনিয়োগকারীদের নজর জানুয়ারি মাসের জন্য জাপান ও ভারতের এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ও এইচএসবিসি কম্পোজিট এবং সার্ভিসেস পিএমআইয়ের চূড়ান্ত পরিসংখ্যানের দিকে রয়েছে। একই সঙ্গে তৃতীয় ত্রৈমাসিকের ফলাফল প্রকাশ করবে বাজাজ ফিনসার্ভ, টাটা পাওয়ার কোম্পানি, অ্যাপোলো টায়ার্স, কামিন্স ইন্ডিয়া, দেবযানি ইন্টারন্যাশনাল, এমামি, এমকিউর ফার্মাসিউটিক্যালস, ফোর্স মোটরস, হেক্সাওয়্যার টেকনোলজিস, আইভ্যালু ইনফোসোলিউশন্স, জেএসডব্লিউ সিমেন্ট, কালপতরু প্রজেক্টস ইন্টারন্যাশনাল, মেট্রোপলিস হেলথকেয়ার, আপিজে সুরেন্দ্র পার্ক হোটেলস, টিমলিজ সার্ভিসেস, টিউব ইনভেস্টমেন্টস অফ ইন্ডিয়া, ট্রেন্ট এবং জুয়ারি এগ্রো কেমিক্যালস। বাজারের নজর বাজাজ ফাইন্যান্স, ওয়ান মোবিকুইক সিস্টেমস, আরতি ড্রাগসসহ অন্যান্য কোম্পানির ফলাফলের দিকেও রয়েছে, যা মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে।











