পরীক্ষার দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি। সেই দিনই যদি হারিয়ে যায় এডমিট কার্ড, তবে আতঙ্কে ভেঙে পড়াই স্বাভাবিক। তেমনই এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের এক কলেজছাত্রী। কিন্তু পুলিশের দ্রুততা ও মানবিকতায় শেষ মুহূর্তে রক্ষা পেল একটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।
বাসযাত্রার মাঝেই নিখোঁজ ব্যাগ, আতঙ্কে ছাত্রী
তমলুকের রাধাবল্লভপুর থেকে বাসে চেপে অনার্স পরীক্ষা দিতে হলদিয়ার চৈতন্যপুরের রামপুর কলেজের উদ্দেশে রওনা দেন কোয়েল দাস নামে ওই ছাত্রী। মহিষাদলে পৌঁছে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর ব্যাগটি আর সঙ্গে নেই। সেই ব্যাগের মধ্যেই ছিল এডমিট কার্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে তাঁর মনোবল।
মাঝ রাস্তায় কান্না, পুলিশের দ্বারস্থ পরীক্ষার্থী
ব্যাগ হারানোর বিষয়টি বুঝতে পেরেই বাস থেকে নেমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কোয়েল। ঠিক সেই সময় মহিষাদল থানার ট্রাফিক ইনচার্জ রানা ব্যানার্জির নজরে আসে বিষয়টি। পরীক্ষার্থীর কথা শুনেই তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেন।
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার এডমিট কার্ড
বাসের নম্বর সংগ্রহ করে বাস মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সিভিক ভলান্টিয়ার পাঠিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। পুলিশের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্ধার হয় ব্যাগটি। সেই ব্যাগের মধ্যেই অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায় এডমিট কার্ড—যা পরীক্ষায় বসার একমাত্র চাবিকাঠি।
দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নয় মানবিকতা, পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিল পুলিশ
এডমিট কার্ড উদ্ধার করেই দায়িত্ব শেষ করেননি ট্রাফিক ইনচার্জ। নিজে উদ্যোগ নিয়ে পরীক্ষার্থীকে নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন তিনি। শেষমেশ সমস্ত অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় বসতে পারেন কোয়েল।
পরীক্ষার দিন বাসে ব্যাগ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েন এক কলেজছাত্রী। কান্নায় ভেঙে পড়া সেই পরীক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার নজির গড়লেন মহিষাদলের ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক। নাটকীয়ভাবে উদ্ধার হল এডমিট কার্ড, শেষমেশ পরীক্ষাও দিতে পারলেন ছাত্রী।











