বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজার দুর্বল সূচনার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি করে। বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রাপ্ত মিশ্র সংকেত এবং দেশীয় স্তরে অব্যাহত অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রধান সূচক BSE Sensex এবং NSE Nifty 50 উভয়ই পতনের সঙ্গে খোলে।
৯ এপ্রিলের সকালে ভারতীয় শেয়ারবাজারের সূচনা হতাশাজনক ছিল। বৈশ্বিক বাজারের মিশ্র ইঙ্গিত এবং দেশীয় অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে BSE Sensex এবং Nifty 50 লাল চিহ্নে খোলে। বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রির চাপ তীব্র হয়ে ওঠে, যার ফলে সেনসেক্স ৫০০ পয়েন্টের বেশি পতন ঘটে। এই পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে আগের সেশনে বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাওয়ার পর।
লেনদেনের শুরুতেই উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। সেনসেক্স ৫৩১ পয়েন্টের বেশি কমে ৭৭,০৩১ স্তরে নেমে আসে। একই সময়ে নিফটি ১৫০ পয়েন্টের বেশি কমে প্রায় ২৩,৮৪৩ স্তরে লেনদেন করতে দেখা যায়। নিফটির ২৩,৯০০ মনস্তাত্ত্বিক স্তরের নিচে নামা বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাজার খোলার পরপরই বিক্রির চাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন। আগের সেশনের ওঠানামার পর এই পতন বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।
![]()
প্রাথমিক লেনদেনে কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যায়, যার মধ্যে NTPC, Bharat Electronics Limited, Max Healthcare, Bajaj Auto এবং Hindalco Industries অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে Bajaj Finance, Shriram Finance, Adani Ports, Infosys এবং Mahindra & Mahindra পতনের সঙ্গে শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় ছিল।
মার্কেট ব্রেডথ অনুযায়ী প্রায় ১২১৫টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যেখানে ১২৮৮টি শেয়ার পতনের সঙ্গে লেনদেন করছিল। ১৭৪টি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা বাজারের মিশ্র অবস্থাকে নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে পতনের পেছনে একাধিক বৈশ্বিক এবং দেশীয় কারণ রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। এই সমঝোতা কতটা স্থায়ী হবে এবং এর বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক রয়েছেন।
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FIIs) ধারাবাহিক বিক্রিও বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করলে তা সরাসরি দেশীয় বাজারের গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলে।












