ভারতীয় শেয়ারবাজার ২৭৭ পয়েন্ট উত্থানে শুরু সেনসেক্স ৭৭০০৫ এ নিফটি ২৪০০০ অতিক্রম

মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বগতির মাধ্যমে লেনদেন শুরু করে। সেনসেক্স ২৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,০০৫ স্তরে খোলে এবং নিফটি ৫০ ২৪,০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। বৈশ্বিক বাজারের ইতিবাচক সংকেত ও অপরিশোধিত তেলের দামের নিম্নগতি প্রাথমিক লেনদেনে বাজারকে সমর্থন দেয়।

 

পূর্বের লেনদেন সেশনে ৩৭২ পয়েন্ট পতনের পর মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ারবাজার শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতির মাধ্যমে লেনদেন শুরু করে। বৈশ্বিক বাজার থেকে ইতিবাচক সংকেত, অপরিশোধিত তেলের দামের নিম্নগতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশীয় ইকুইটি বাজারে প্রাথমিক লেনদেনে ক্রয়চাপ লক্ষ্য করা যায়।

লেনদেনের শুরুতে বিএসই সেনসেক্স প্রায় ২৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,০০০ পয়েন্টের ওপরে, ৭৭,০০৫ স্তরে খোলে। একই সময়ে এনএসই নিফটি ৫০ গুরুত্বপূর্ণ ২৪,০০০ পয়েন্টের স্তর অতিক্রম করে ইতিবাচক সূচনা করে। আগের লেনদেন সেশনের পতনের পর বিনিয়োগকারীরা নির্বাচিত কয়েকটি খাতে পুনরায় শেয়ার কেনায় আগ্রহ দেখান, যার ফলে বাজারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রাপ্ত ইতিবাচক সংকেত ভারতীয় বাজারের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম এশিয়া-সংক্রান্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমার প্রত্যাশা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের পতন ভারতসহ তেল আমদানিনির্ভর উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদার হতে পারে।

মঙ্গলবার এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রাথমিক লেনদেনে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতিতে ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকও ইতিবাচক অবস্থানে থেকে প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের শেয়ারে ক্রয়চাপ প্রত্যক্ষ করে।

ভারতীয় শেয়ারবাজার ২৭৭ পয়েন্ট উত্থানে শুরু সেনসেক্স ৭৭০০৫ এ নিফটি ২৪০০০ অতিক্রম

অন্যদিকে, হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রাথমিক লেনদেনে সামান্য পতনের সঙ্গে নিম্নমুখী অবস্থানে ছিল। চীনের অর্থনৈতিক সূচক এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রভাব সেখানে বাজারে প্রতিফলিত হয়। এশিয়ার বাজারে মিশ্র প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় বাজার তার ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখে।

সোমবার রাতে মার্কিন শেয়ারবাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতির প্রভাবও ভারতীয় বাজারে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচকগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। প্রযুক্তি কোম্পানি এবং ব্লু-চিপ শেয়ারে ক্রয়চাপের ফলে প্রধান সূচকগুলো নতুন রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, কর্পোরেট আয়ের উন্নততর পূর্বাভাস এবং বৈশ্বিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব মঙ্গলবার এশিয়া এবং ভারতীয় বাজারেও দেখা যায়।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর উভয়ের দামই কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নিচে অবস্থান করছে।

ভারতের মতো বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশের জন্য অপরিশোধিত তেলের দাম কমা ইতিবাচক বলে বিবেচিত হয়, কারণ এর ফলে আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতির ওপর চাপ কমতে পারে।

 

Leave a comment