জেনারেল ধীরজ কুমার সেঠ ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন

জেনারেল ধীরজ কুমার সেঠ ৩০ জুন, ২০২৬ থেকে ভারতের নতুন চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন এবং চার দশকের সামরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন।

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ধীরজ কুমার সেঠ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যিনি চার দশকেরও বেশি সামরিক সেবার পর অবসর গ্রহণ করেছেন।

ভারত সরকার জেনারেল ধীরজ কুমার সেঠকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ (Chief of the Army Staff) হিসেবে নিয়োগ করেছে। তিনি ৩০ জুন, ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হন।

জেনারেল সেঠের নিয়োগ এমন সময়ে হয়েছে, যখন ভারতীয় সেনাবাহিনী ব্যাপক আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের যুদ্ধক্ষমতা জোরদারে দ্রুত কাজ করছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর দীর্ঘ অপারেশনাল অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত নেতৃত্ব সেনাবাহিনীকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

জেনারেল ধীরজ কুমার সেঠের নিয়োগ বিভিন্ন দিক থেকে ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ৩০ বছর পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব এমন একজন কর্মকর্তার হাতে এসেছে, যার মূল শাখা আর্মর্ড কোর। এর আগে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জেনারেল শঙ্কর রায় চৌধুরী ছিলেন আর্মর্ড কোর থেকে আসা শেষ সেনাপ্রধান। ফলে জেনারেল সেঠের নিয়োগ এই সামরিক শাখার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জেনারেল ধীরজ কুমার সেঠ ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (NDA), খড়গবাসলা এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি (IMA), দেরাদুন থেকে প্রাথমিক সামরিক শিক্ষা লাভ করেন। ২০ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ সালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মর্ড কোরের সেকেন্ড ল্যান্সার্স রেজিমেন্টে কমিশনপ্রাপ্ত হন। চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি বিভিন্ন অপারেশনাল এলাকা ও কৌশলগত দায়িত্বে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সামরিক কৌশল ও নেতৃত্বের জন্য পরিচিত জেনারেল সেঠ ভারত ও বিদেশের একাধিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি মধ্যপ্রদেশের মহুতে হায়ার কমান্ড কোর্স, নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, ফ্রান্সের প্যারিসে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড জেনারেল স্টাফ কোর্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলে ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন ম্যানেজমেন্ট কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

জেনারেল ধীরজ কুমার সেঠ ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন

জেনারেল সেঠের সামরিক জীবন বহুমুখী অপারেশনাল অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সময় একটি আর্মর্ড রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি পশ্চিম সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালন করে মরু অঞ্চলে একটি স্ট্রাইক কোরেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেই নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম, যাঁরা সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ড এবং সাদার্ন কমান্ড—এই দুটি প্রধান অপারেশনাল কমান্ডে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি সুদর্শন চক্র কোরের নেতৃত্ব দেন। পরে তাঁকে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (GOC) হিসেবে নিয়োগ করা হয়, যেখানে তিনি একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রমের সমন্বয় ও পরিচালনায় ভূমিকা পালন করেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অবদানের জন্য জেনারেল সেঠ একাধিক সামরিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে ডিফেন্স ইনভেস্টিচার সেরিমনি ২০২৬-এ উত্তম যুদ্ধ সেবা পদক (UYSM) প্রদান করেন। অপারেশনাল এলাকায় নেতৃত্ব, সামরিক কৌশল এবং জাতীয় নিরাপত্তায় অবদানের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়। এটি তাঁর পেশাগত দক্ষতা ও সামরিক সেবার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ধীরজ কুমার সেঠের সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী বর্তমানে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা, স্বদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা এবং যৌথ সামরিক অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সেনাবাহিনী তাদের অপারেশনাল সক্ষমতা সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেল সেঠের বিস্তৃত অপারেশনাল অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলতে পারে।

সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ধীরজ কুমার সেঠের দায়িত্ব গ্রহণকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা, কৌশলগত চিন্তাভাবনা এবং বহুমুখী নেতৃত্বের ভিত্তিতে তাঁর কাছ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ, যুদ্ধক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

Leave a comment