ধনতেরসের আগে সেনসেক্সের ২,০০৮ পয়েন্ট উত্থান, ৭৯,৩১০-এ বন্ধ বাজার

তিবার সেনসেক্স ২,০০৮.৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৭৯,৩১০.০১ এবং নিফটি ৫৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৫৩৬.৬০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। ব্যাঙ্কিং, অটোমোবাইল ও আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রের শেয়ারে কেনাকাটা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট বিনিয়োগ বাজারকে সমর্থন জুগিয়েছে।

ধনতেরসের আগে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থান দেখা গেল। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, সেনসেক্স ২,০০৮.৬১ পয়েন্ট বা ২.৬০ শতাংশ বেড়ে ৭৯,৩১০.০১ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, নিফটি ৫৭৬ পয়েন্ট বা ২.৪০ শতাংশ বেড়ে ২৪,৫৩৬.৬০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। টানা ষষ্ঠ ট্রেডিং সেশনেও বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। ব্যাঙ্কিং, অটোমোবাইল এবং আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি কেনাকাটা হয়েছে। মার্কিন বাজার থেকে পাওয়া ইতিবাচক ইঙ্গিত, অপরিশোধিত তেলের দামে পতন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটা দেশীয় বাজারকে সমর্থন জুগিয়েছে।

বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরু থেকেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে কেনাকাটার প্রবণতা দেখা যায়। দিনের শেষ পর্যন্ত সেই প্রবণতা বজায় থাকে। এর ফলে দুই প্রধান সূচকই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সঙ্গে লেনদেন শেষ করেছে।

বিএসই সেনসেক্স ২,০০৮.৬১ পয়েন্ট বা ২.৬০ শতাংশ বেড়ে ৭৯,৩১০.০১ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, এনএসই নিফটি ৫৭৬ পয়েন্ট বা ২.৪০ শতাংশ বেড়ে ২৪,৫৩৬.৬০ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

এর আগে বুধবার সেনসেক্স ৭৭,৩০১.৪০ পয়েন্ট এবং নিফটি ২৩,৯৬০.৬০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল। অর্থাৎ, এক ট্রেডিং সেশনেই দুই সূচকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। গত সাত মাসের মধ্যে বৃহস্পতিবারের উত্থান ছিল দেশীয় শেয়ার বাজারের সবচেয়ে বড় একদিনের বৃদ্ধি। টানা ছয়টি ট্রেডিং সেশনে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। তবে বছরের শুরু থেকে হিসাব করলে প্রধান সূচকগুলি এখনও লোকসানের মধ্যে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাজারের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে অটোমোবাইল এবং আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্র। নিফটি অটো সূচক ৪.১৪ শতাংশ বেড়েছে। মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা, মারুতি সুজুকি-সহ বিভিন্ন অটোমোবাইল সংস্থার শেয়ারে কেনাকাটা দেখা গিয়েছে।

নিফটি ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সূচক ৩.৯৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রাইভেট ব্যাঙ্ক সূচক ৩.৪৪ শতাংশ, নিফটি ব্যাঙ্ক ৩.৩৩ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সূচক ৩.১৩ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শেষ করেছে।

রিয়েলটি ক্ষেত্রের সূচকও ৩.৫২ শতাংশ বেড়েছে। কনজিউমার ডিউরেবলস সূচক ২.৩২ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি সূচক ২.৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে সব ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়নি। মিডিয়া সূচক ০.৮৪ শতাংশ এবং এনার্জি সূচক ০.৩৪ শতাংশ কমেছে। ফার্মা ও মেটাল শেয়ারেও সীমিত বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।

ধনতেরসের আগে সেনসেক্সের ২,০০৮ পয়েন্ট উত্থান, ৭৯,৩১০-এ বন্ধ বাজার

নিফটির প্রধান শেয়ারগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বাজাজ ফিনান্সের শেয়ার। সংস্থাটির শেয়ারের দাম ৭.৬৫ শতাংশ বেড়েছে। শ্রীরাম ফিনান্সের শেয়ার ৬.০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অটোমোবাইল ক্ষেত্রের মধ্যে মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রার শেয়ার ৫.৫৯ শতাংশ এবং মারুতি সুজুকির শেয়ার ৫.৪৮ শতাংশ বেড়েছে। বিমান পরিষেবা সংস্থা ইন্ডিগোর মূল সংস্থা ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশনের শেয়ারে ৫.৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের শেয়ার ৫.৩৩ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শেষ করেছে।

বাজারের সামগ্রিক উত্থানের মধ্যেও কয়েকটি সংস্থার শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা গিয়েছে। অ্যাপোলো হসপিটালসের শেয়ার ২.৬৬ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ওএনজিসি, এনটিপিসি, কোল ইন্ডিয়া এবং ভারত ইলেকট্রনিক্সের শেয়ারও লোকসানের সঙ্গে লেনদেন শেষ করেছে।

বৃহস্পতিবার বড় সংস্থাগুলির পাশাপাশি মাঝারি ও ছোট সংস্থার শেয়ারেও কেনাকাটা হয়েছে। নিফটি মিডক্যাপ সূচক প্রায় ১.৮ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক ০.৬ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়েছে।

বাজারের সামগ্রিক অবস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মোট ২,৭৭৫টি শেয়ারের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, ১,৩২৯টি শেয়ারের দাম কমেছে। ১৪৭টি শেয়ারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এই পরিসংখ্যানে বাজারের বিভিন্ন অংশে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের চিত্র উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ার বাজারের উত্থানের পিছনে একাধিক কারণ ছিল। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জয়ের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিনিয়োগকারীদের একাংশের আশা, আমেরিকার নীতিতে আগামী দিনে পরিবর্তন এলে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা কমতে পারে।

এছাড়া অপরিশোধিত তেলের দামে পতনও দেশীয় বাজারকে সমর্থন জুগিয়েছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৮.৭ শতাংশ কমেছিল। ভারতের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার সিংহভাগ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের আমদানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির উপর চাপ কমার সম্ভাবনা থাকে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটাও বাজারের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। বুধবার বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (এফপিআই) ভারতীয় শেয়ার বাজারে প্রায় ৭,২৮৪ কোটি টাকার নিট বিনিয়োগ করেছিলেন।

 

Leave a comment