যে পেশাকে দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র পুরুষদের কাজ বলে মনে করা হত, সেই বিদ্যুৎ লাইন রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেই নতুন ইতিহাস লিখেছেন তেলেঙ্গানার দুই তরুণী। ভি ভারতী ও বাব্বুরি শিরিশা শুধু দেশের প্রথম মহিলা লাইনম্যানই নন, তাঁরা প্রমাণ করেছেন যোগ্যতার কোনও লিঙ্গ নেই। কঠিন সংগ্রাম, আদালতের লড়াই এবং সামাজিক কুসংস্কারকে পিছনে ফেলে আজ তাঁরা বিদ্যুতের খুঁটির মাথায় উঠে কাজ করছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।
পুরুষ-প্রধান পেশায় নারীর সাহসী পদক্ষেপ
বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যানের কাজ বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ বলে পরিচিত। উচ্চভোল্টেজ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, খুঁটিতে ওঠা এবং দুর্গম এলাকায় কাজ করার মতো দায়িত্ব সাধারণত পুরুষ কর্মীরাই পালন করে আসছিলেন। তবে সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ভারতী ও শিরিশা। উজ্জ্বল সেফটি হেলমেট ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরে তাঁরা এখন সমান দক্ষতায় বিদ্যুৎ পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
চাকরির জন্য লড়াই আদালত পর্যন্ত
২০২০ সালে এই পদের জন্য আবেদন করার সময় তাঁদের সামনে ছিল একাধিক বাধা। আগে কোনও নারীকে এই পদের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের। আইটিআই-তে ইলেকট্রিশিয়ান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই দুই তরুণীকে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দেয় এবং ২০২২ সালে তাঁরা সরকারি ভাবে কাজে যোগ দেন।
সামাজিক কটাক্ষকে জবাব কাজ দিয়েই
ভারতীর কথায়, বহু মানুষ তাঁকে বলেছিলেন এই চাকরি নাকি মেয়েদের জন্য নয়। কিন্তু তিনি কখনও সেই মন্তব্যে ভেঙে পড়েননি। বরং আরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বর্তমানে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে কাজ করার পাশাপাশি নিজের উচ্চশিক্ষাও সম্পূর্ণ করেছেন তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সামলানোর পাশাপাশি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন তাঁর অধ্যবসায়েরই প্রমাণ।
নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা
শিরিশা ও ভারতীর সাফল্য এখন বহু তরুণীর কাছে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে। তাঁদের কাছে এসে অনেকেই জানতে চান কীভাবে এই পেশায় আসা যায়। কর্মক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকেও সমান সম্মান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, যোগ্যতা এবং দক্ষতাই আসল পরিচয়, লিঙ্গ নয়।
বদলাচ্ছে সমাজের মানসিকতা
একসময় যে কাজকে শুধুমাত্র পুরুষদের উপযোগী মনে করা হত, আজ সেখানে নারীরাও সফলভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। ভারতী ও শিরিশার এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং সমাজের বদলে যাওয়া মানসিকতারও প্রতিফলন। তাঁদের অর্জন প্রমাণ করেছে যে সুযোগ পেলে নারীরাও যে কোনও ক্ষেত্রেই সমানভাবে সফল হতে পারেন।
তেলেঙ্গানার দুই তরুণী ভি ভারতী ও বাব্বুরি শিরিশা পুরুষ-প্রধান বিদ্যুৎ পরিষেবা ক্ষেত্রে প্রবেশ করে দেশের প্রথম মহিলা লাইনম্যান হিসেবে নজির গড়েছেন। আইনি লড়াই, সামাজিক বাধা এবং নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তাঁরা আজ উচ্চভোল্টেজ বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে কাজ করছেন সমান দক্ষতায়। তাঁদের এই সাফল্য দেশের অসংখ্য নারীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।







