কোলন ক্যানসার এমন এক রোগ, যা অনেক সময় দীর্ঘদিন শরীরের ভিতরে নীরবে বেড়ে ওঠে। প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ স্পষ্ট না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। ফলে চিকিৎসাও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনকেও অবহেলা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কী এই কোলন ক্যানসার?
কোলন বা বৃহদন্ত্র মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অংশের কোষে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুরু হলে ধীরে ধীরে কোলন ক্যানসার তৈরি হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ছোট পলিপ থেকে শুরু হয় এবং সময়ের সঙ্গে ক্যানসারে রূপ নেয়। প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এই ৫ শ্রেণির মানুষের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ কোলন ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
৫০ বছরের বেশি বয়সীরা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে ৫০-৫৫ বছরের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।
পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস যাঁদের আছে
পরিবারের কারও কোলন ক্যানসার বা অন্যান্য ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে জিনগত কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত মানুষ
প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লাল মাংস এবং কম ফাইবারযুক্ত খাদ্য দীর্ঘমেয়াদে কোলনের ক্ষতি করতে পারে।
ধূমপান ও মদ্যপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি
তামাক ও অ্যালকোহল শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি কোলনের কোষেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
শারীরিক পরিশ্রম কম করেন যাঁরা
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব এবং স্থূলতা কোলন ক্যানসারের অন্যতম ঝুঁকির কারণ হিসেবে ধরা হয়।
কোন লক্ষণগুলোকে অবহেলা করবেন না?
কোলন ক্যানসারের কিছু উপসর্গ রয়েছে, যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মলত্যাগের সময় রক্তপাত
দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
বারবার পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি
হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
রক্তাল্পতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি
মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন
এই লক্ষণগুলো সবসময় ক্যানসারের ইঙ্গিত না দিলেও এগুলোকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ
আগে যেখানে এই রোগ মূলত বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাস্টফুড নির্ভর জীবনযাপন, কম শারীরিক পরিশ্রম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং স্থূলতা এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্ক্রিনিংই হতে পারে সবচেয়ে বড় অস্ত্র
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত স্ক্রিনিং কোলন ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কোলনোস্কোপি, মল পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং বিভিন্ন ইমেজিং টেস্টের মাধ্যমে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রেই ক্যানসারে পরিণত হওয়ার আগেই পলিপ অপসারণ করা যায়।
বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে কোলন বা কলোরেক্টাল ক্যানসারের প্রকোপ। একসময় বয়স্কদের রোগ বলে মনে হলেও এখন তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস ও শারীরিক অবস্থার কারণে কয়েকটি গোষ্ঠীর মানুষের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই লক্ষণ ও ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতন হওয়াই হতে পারে বড় বিপদ এড়ানোর উপায়।













