ইসরায়েল ৮ মার্চ তেহরান এবং এর আশপাশের তেল ভান্ডার ও রিফাইনারিতে বিমান হামলা চালায়। এতে চারজন নিহত হয়। আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল মেঘ দেখা যায়। ইরানি কর্মকর্তারা নাগরিকদের ঘরের ভিতরে থাকার পরামর্শ দেন।
তেহরান ও আশপাশের তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা
ইসরায়েল জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের এমন সামরিক স্থাপনা, যেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। তবে হামলার পরিসর যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এক মার্কিন কর্মকর্তা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমরা মনে করি না এটি একটি ভালো ধারণা ছিল।” ওই প্রতিক্রিয়ার পর একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে “WTF” বলেছে, যার অর্থ “এটা কী বোকামি।” যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই মিত্র দেশের মধ্যে এটিকে প্রথম বড় মতভেদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প প্রশাসনের এক উপদেষ্টা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে পছন্দ করেননি। তার লক্ষ্য ছিল তেল বিক্রি করা, তা ধ্বংস করা নয়, কারণ এতে বৈশ্বিক গ্যাস ও তেলের দাম বেড়ে যায়। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

ইরানের সতর্কবার্তা
ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, যদি ইসরায়েল জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, এর ফলে বৈশ্বিক তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর সরাসরি হামলা চালায়নি।
বৈশ্বিক তেলবাজারে প্রভাব
ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ৯২.৬৯ ডলার থেকে বেড়ে সোমবার ১০৭.৯৭ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ১০৬.২২ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য ইরানি বাধা এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাজারে ইতোমধ্যে চাপ তৈরি হয়েছিল।
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এখন দশম দিনে প্রবেশ করেছে। উভয় পক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে ইরানের তেল ভান্ডার ও রিফাইনারিতে হামলা চালিয়ে আকাশে কালো ধোঁয়ার মেঘ সৃষ্টি করেছে। ইরানও একাধিক শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই উত্তেজনা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলেছে।





