মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষে সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইলা এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ ২০তম দিনে প্রবেশ করেছে। বুধবার ইসরায়েল ইরানের ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলা চালায়, যেখানে প্রথমবার ইরানের অর্থনীতির মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচিত সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই হামলায় গ্যাস ফিল্ডে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকাজুড়ে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এই হামলার পর ইরান প্রতিক্রিয়াস্বরূপ কাতারের এলএনজি স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইরান জানায়, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ তাদের জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। ঘটনাটির পর যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ওমানসহ সহযোগী দেশগুলি ইসরায়েলের এই হামলার নিন্দা জানায়।

এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল আর সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলা চালাবে না। ট্রাম্প জানান, এই হামলায় গ্যাস ফিল্ডের একটি ছোট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বে কোনো তথ্য ছিল না।

ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে কাতার এই হামলায় জড়িত ছিল না এবং ঘটনাটি সম্পর্কে তাদের কোনো পূর্ব ধারণা ছিল না। তিনি বলেন, ইরানের কাছে এই হামলা এবং কাতারের এলএনজি স্থাপনায় আঘাতের বিষয়ে সঠিক তথ্য ছিল না এবং কাতারের ওপর ইরানের হামলা ভুল ও অযৌক্তিক ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষে সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডের নিরাপত্তা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, এই ফিল্ডটি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি পুনরায় কাতারের ওপর হামলা না করে, তবে এই ফিল্ডে আর কোনো হামলা হবে না। তবে যদি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে বা ছাড়াই পূর্ণ শক্তি দিয়ে এই ফিল্ডকে লক্ষ্য করবে। ট্রাম্প বলেন, ইরান আগে কখনও এই ধরনের শক্তির সম্মুখীন হয়নি।

ট্রাম্প বলেন, তিনি সহিংসতা ও ধ্বংসের অনুমোদন দিতে চান না, কারণ এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ইরানের ভবিষ্যতের ওপর পড়বে। তিনি জানান, কাতারের এলএনজি স্থাপনায় আবার হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে প্রতিক্রিয়া জানানোর পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। তিনি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলা শুধুমাত্র ইরানের জ্বালানি সরবরাহকেই প্রভাবিত করে না, বরং পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক গ্যাস বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত এবং কোনো ভুল হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড ইরান ও কাতারের মধ্যে যৌথভাবে ব্যবহৃত একটি বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্প। এটি ইরানের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এই ফিল্ড থেকে ইরানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। ফলে এর ক্ষতি স্থানীয় সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

Leave a comment