জবলপুরের বরগি বাঁধে ক্রুজ বোট উল্টে যাওয়ার ঘটনায় পর্যটন বিভাগের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীরা অবহেলার অভিযোগ করেছেন এবং কঠোর নিয়মের দাবি জোরালো হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে অবস্থিত বরগি বাঁধ এলাকায় নর্মদা নদীতে পর্যটন চলাকালীন একটি ক্রুজ বোট হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়, ফলে বহু পর্যটক পানিতে পড়ে যান। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বোটে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
দুর্ঘটনার সময় বোটে থাকা যাত্রীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং অনেকে প্রাণ বাঁচাতে পানিতে লড়াই করতে থাকেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার আগে কিছু যাত্রী দীর্ঘ সময় বিপদের মধ্যে ছিলেন। পরে স্থানীয় নৌকাচালক ও উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় বহু মানুষকে নিরাপদে তোলা হয়, তবে ঘটনাটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।

এই দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া প্রিয়া শর্মা জানান, বোটে যাত্রীদের অত্যন্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ঠাসাঠাসি করে বসানো হয়েছিল এবং পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট দেখা যায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুদের নিরাপত্তার জন্য কোনও বিশেষ ব্যবস্থা ছিল না এবং রেলিং এতটাই দুর্বল ছিল যে যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এই পরিস্থিতি নিরাপত্তা বিধির অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় পর্যটক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পর্যটনস্থলে নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রায়শই কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে। তাঁদের অভিযোগ, নিয়মিত পরিদর্শনের অভাবের কারণে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে, যা যাত্রীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এবং প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
ঘটনার পর প্রশাসন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিয়ম আরও কঠোর করার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার দাবি জানিয়ে চলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আগেও এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও বাস্তব পর্যায়ে কোনও স্থায়ী উন্নতি হয়নি, ফলে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বাড়ছে। এই ঘটনা আবারও পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো সামনে নিয়ে এসেছে।












