গত কয়েক বছরে Electronic cigarette বা ভেপিং তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে। অনেকেই এটিকে ধূমপানের ‘কম ক্ষতিকর’ বিকল্প হিসেবে দেখছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়—বরং এতে লুকিয়ে আছে নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ভেপিং আসলে কী? কীভাবে কাজ করে এই ডিভাইস
ভেপিং হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ই-সিগারেট একটি তরল গরম করে অ্যারোসল বা বাষ্প তৈরি করে। এই তরলে সাধারণত নিকোটিন, ফ্লেভার এবং বিভিন্ন রাসায়নিক থাকে। তামাক পোড়ানো না হলেও শরীরে ক্ষতিকর উপাদান প্রবেশ করে।
ধূমপান বনাম ভেপিং—কোথায় পার্থক্য?
প্রথাগত সিগারেটে তামাক পোড়ানোর ফলে হাজার হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়। ভেপিং-এ এই সংখ্যা কম হতে পারে, কিন্তু তা একেবারেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। দুই ক্ষেত্রেই শরীর নিকোটিনের সংস্পর্শে আসে।
‘কম ক্ষতি’ মানেই কি নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট উত্তর
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভেপিং তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হতে পারে, কিন্তু এতে ভারী ধাতু, সূক্ষ্ম কণা ও রাসায়নিক থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। তাই এটিকে ‘নিরাপদ’ বলা ঠিক নয়।
নিকোটিন—অভ্যাস থেকে আসক্তিতে দ্রুত পতন
Nicotine অত্যন্ত আসক্তি সৃষ্টিকারী উপাদান। এটি হৃদস্পন্দন বাড়ায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং ধীরে ধীরে শরীরকে নির্ভরশীল করে তোলে। কিশোরদের ক্ষেত্রে এটি মস্তিষ্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফুসফুসে নীরব আঘাত—ভেপিংয়ে বাড়ছে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি
ভেপ লিকুইডে থাকা কিছু রাসায়নিক ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত ভেপিং করলে কাশি, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশ্বজুড়ে ভেপিং-জনিত ফুসফুসের ক্ষতির ঘটনাও সামনে এসেছে।
ফ্লেভারযুক্ত ভেপ—আকর্ষণের ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম
ফল বা ক্যান্ডি ফ্লেভারের ভেপ অনেকের কাছে নিরীহ মনে হলেও, এই ফ্লেভার তৈরির রাসায়নিক ফুসফুসে ক্ষতি করতে পারে। আকর্ষণীয় স্বাদের কারণে কিশোরদের মধ্যে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
পরোক্ষ ঝুঁকিও কম নয়—পাশের মানুষও আক্রান্ত
ভেপিং থেকে বের হওয়া বাষ্পে থাকা রাসায়নিক আশেপাশের মানুষকেও প্রভাবিত করতে পারে। যদিও এটি সিগারেটের ধোঁয়ার তুলনায় কম ক্ষতিকর, তবুও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
ই-সিগারেট বা ভেপিংকে অনেকেই ধূমপানের তুলনায় নিরাপদ ভাবছেন। কিন্তু এতে থাকা Nicotine ও অন্যান্য রাসায়নিক ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। নতুন গবেষণায় বাড়ছে উদ্বেগ।













