বর্ষা মানেই কাঁঠালের মৌসুম। পাকা কাঁঠালের মিষ্টি স্বাদের পাশাপাশি এর বীজও সমান পুষ্টিকর। অনেকেই অজান্তে কাঁঠালের বীজ ফেলে দিলেও, এটি দিয়ে তৈরি করা যায় দুর্দান্ত স্বাদের ভর্তা। গরম ভাতের সঙ্গে এই ভর্তা যেমন মুখরোচক, তেমনই শরীরের জন্যও উপকারী। চলুন জেনে নেওয়া যাক সহজ রেসিপি।
![]()
কাঁঠালের বীজ কেন খাবেন?
কাঁঠালের বীজে রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, খনিজ এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এটি হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। তাই মৌসুমে পরিমিত পরিমাণে কাঁঠালের বীজ খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।
ভর্তা বানাতে কী কী লাগবে?
এই রেসিপির জন্য প্রয়োজন হবে—
কাঁঠালের বীজ
মটর ডাল (সেদ্ধ)
কাঁচা লঙ্কা
রসুন
কালোজিরে
হলুদ গুঁড়ো
নুন
সামান্য চিনি
সর্ষের তেল
শুকনো লঙ্কা
ঘরে থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়েই খুব সহজে এই ভর্তা তৈরি করা যায়।
![]()
ধাপে ধাপে বানানোর সহজ পদ্ধতি
প্রথমে কাঁঠালের বীজ ভালোভাবে ধুয়ে সেদ্ধ করে নিন। জল ঝরিয়ে বীজের সঙ্গে কাঁচা লঙ্কা, রসুন ও সামান্য কালোজিরে দিয়ে মিহি করে বেটে নিন। চাইলে আগে থেকে সেদ্ধ করা মটর ডালও এই মিশ্রণে যোগ করতে পারেন। এতে ভর্তা আরও মোলায়েম ও সুস্বাদু হবে।এরপর কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে কালোজিরে ও শুকনো লঙ্কার ফোড়ন দিন। এবার বাটা মিশ্রণ ঢেলে মাঝারি আঁচে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। স্বাদমতো নুন, হলুদ গুঁড়ো এবং অল্প চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি শুকিয়ে এলে নামিয়ে নিন।
![]()
গরম ভাতের সঙ্গে জমে যাবে স্বাদ
ভর্তা তৈরি হয়ে গেলে গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন। আলাদা কোনও তরকারির প্রয়োজন পড়বে না। সর্ষের তেলের ঝাঁঝ, কাঁচা লঙ্কার স্বাদ এবং কাঁঠালের বীজের অনন্য ঘ্রাণ মিলিয়ে এটি বর্ষার দুপুরের আদর্শ ঘরোয়া পদ হয়ে উঠতে পারে।
![]()
বর্ষার মরশুমে কাঁঠালের দেখা মেলে প্রায় সব বাজারেই। ফল খাওয়ার পর অনেকেই বীজ ফেলে দেন। অথচ এই বীজ দিয়েই তৈরি করা যায় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কাঁঠালের বীজের ভর্তা। অল্প কয়েকটি উপকরণ আর সহজ পদ্ধতিতেই তৈরি হবে বাঙালির ঘরোয়া এই জনপ্রিয় পদ।








