জয়পুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: শিক্ষিকাকে পিষে মারল দ্রুত গতির ট্রাক্টর, হাইওয়ে অবরোধ

জয়পুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: শিক্ষিকাকে পিষে মারল দ্রুত গতির ট্রাক্টর, হাইওয়ে অবরোধ
সর্বশেষ আপডেট: 27-11-2025

জয়পুর। মাধোরাজপুরা উপখণ্ডের ডাবিচ গুর্জারানের কাছে বালি বোঝাই দ্রুত গতির একটি ট্রাক্টর-ট্রলি কর্মস্থলে যাওয়া শিক্ষিকা ফোরন্তা চৌধুরী (২৬)-কে পিষে দিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা স্টেট হাইওয়ে-২ অবরোধ করে মৃতদেহ রেখে দেন, যদিও ট্রাক্টর চালক পালিয়ে যায়।

জয়পুরের মাধোরাজপুরা উপখণ্ডের ডাবিচ গুর্জারানের কাছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় লেভেল-২ শিক্ষিকা এবং এসআইআর (SIR) কাজের সহকারী বিএলও (BLO) ফোরন্তা চৌধুরী (২৬)-এর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ছিল দ্রুত গতির বালি বোঝাই ট্রাক্টর-ট্রলি। ঘটনার পর চালক পালিয়ে যায়, যদিও গ্রামবাসীরা চার কিলোমিটার দূরে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। 

ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা স্টেট হাইওয়ে-২ দৌসা-কুচামান সিটির উপর মৃতদেহ রেখে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা অবরোধ করেন। পুলিশ ট্রাক্টরটি বাজেয়াপ্ত করে চালকের খোঁজ শুরু করেছে। মৃতার বাবা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কর্মস্থলে যাওয়া শিক্ষিকার পরিবার এবং গ্রামবাসীদের জন্য এই দুর্ঘটনা গভীর শোকের কারণ হয়েছে।

কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন শিক্ষিকা 

মাধোরাজপুরা উপখণ্ডের ডাবিচ গুর্জারানের কাছে সকাল প্রায় ৯.৪৫ মিনিটে কর্মস্থলে যাওয়া লেভেল-২ শিক্ষিকা এবং এসআইআর (SIR) কাজে নিযুক্ত সহকারী বিএলও (BLO) ফোরন্তা চৌধুরী (২৬)-কে দ্রুত গতির বালি বোঝাই ট্রাক্টর-ট্রলি পিষে মেরে ফেলেছে। ফোরন্তা বাইক সমেত ট্রাক্টরের নিচে আটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাধোরাজপুরার এসডিএম (SDM) রাজেশ কুমার মীনা, তহসিলদার তনু শর্মা এবং থানা ইনচার্জ চন্দ্রভান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গ্রামবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্টেট হাইওয়ে-২ অবরোধ করেন। পুলিশ ট্রাক্টরটি বাজেয়াপ্ত করে চালকের খোঁজ শুরু করেছে। মৃতার পরিবার চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

গ্রামবাসীরা মৃতদেহ রেখে হাইওয়ে অবরোধ করলেন

মাধোরাজপুরা উপখণ্ডে কর্মস্থলে যাওয়া শিক্ষিকা ফোরন্তা চৌধুরীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা রাস্তার উপরই মৃতদেহ রেখে স্টেট হাইওয়ে-২ অবরোধ করেন। অবরোধের কারণে উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রামবাসীরা মৃতার পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরি এবং ঘটনার সময় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কর্তৃপক্ষ বোঝানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু গ্রামবাসীরা শান্ত হননি।

সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর ঐকমত্য

কয়েক দফা আলোচনার পর সন্ধ্যা ৪.৩০ মিনিটে গ্রামবাসীরা ট্রাক্টর চালকের দ্রুত গ্রেপ্তার, পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, অবৈধ বালি খনন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন। এরপর অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ফোরন্তা চৌধুরীকে দু'বছর আগেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মেয়ের মৃত্যুতে বাবা জগদীশ চৌধুরী, মা রাসালি দেবী এবং ভাই রাজুর উপর দুঃখের পাহাড় ভেঙে পড়েছে। গ্রামবাসী ও পরিবার এখন ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার আশায় রয়েছে।

Leave a comment