সপ্তাহের শুরুতেই বাজারে গিয়ে কার্যত মাথায় হাত জলপাইগুড়ির বাসিন্দাদের। ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে গেলেও ব্যাগ ভরছে না ঠিকমতো। টমেটো, বেগুন, পটল, ঢেঁড়স থেকে শুরু করে লঙ্কা, আদা— সবজির বাজারে যেন আগুন জ্বলছে। তার উপর মাছ-মাংসের দামও ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সংসারের বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি।
সবজির বাজারে ‘সেঞ্চুরি’ লঙ্কা-আদার
জলপাইগুড়ির দিনবাজার, সুফল বাংলা কেন্দ্র কিংবা শহরের অন্যান্য বাজার— সর্বত্রই একই ছবি। সবজির দামে কার্যত লাগামছাড়া বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে টমেটো প্রতি কেজি ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৪০ টাকায় পৌঁছেছে।তবে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা দিচ্ছে লঙ্কা ও আদার দাম। বাজারে কাঁচালঙ্কা ১০০ টাকা কেজি এবং আদা ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্যাপসিকামের দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফলে রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতেই নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের।
ফলের বাজারেও স্বস্তি নেই
সবজির পাশাপাশি ফলের বাজারেও একই অবস্থা। আপেলের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, আম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং পেঁপে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরমের মরশুমে ফলের চাহিদা বাড়লেও দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকেই প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ফল কিনতে পারছেন না।
মাছ-মাংস কিনতেও বাড়ছে চাপ
মাছ-মাংসের বাজারেও ধাক্কা খাচ্ছেন ক্রেতারা। ইলিশ মাছের দাম পৌঁছে গিয়েছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা কেজিতে। কাতলার দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। অন্যদিকে মুরগির মাংস ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম ৯০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।এক সময় সাধারণ মানুষের ভরসা ছিল মুরগির মাংস। কিন্তু এখন তার দামও ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
কেন বাড়ছে দাম? জানালেন ব্যবসায়ীরা
বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দায়ী করছেন অকাল বর্ষা ও পরিবহণ খরচ বৃদ্ধিকে। দিনবাজারের ব্যবসায়ী সঞ্জয় দেবনাথের দাবি, অকাল বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গা থেকে সবজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তার উপর পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির ফলে ট্রান্সপোর্ট খরচও বেড়ে গিয়েছে কয়েকগুণ। সেই অতিরিক্ত খরচের চাপই পড়ছে সরাসরি খুচরো বাজারে।
সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। জলপাইগুড়ির বাসিন্দা বিরাজ বর্মনের কথায়, “যে সবজি কয়েকদিন আগেও ২০-২৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৪০-৫০ টাকার নিচে নেই। ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এলে কখন শেষ হয়ে যায় বোঝাই যায় না।”ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির জেরে গৃহস্থের মাসিক বাজেট কার্যত ভেঙে পড়ছে। বাজারে এখন ‘রেড অ্যালার্ট’ পরিস্থিতি বলেই মনে করছেন অনেকেই।
জলপাইগুড়ির বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এখন কার্যত সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সবজি থেকে মাছ-মাংস, এমনকি ফলের বাজারেও আগুন। অকাল বর্ষা, সরবরাহে সমস্যা এবং পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির জেরে হু হু করে বেড়েছে দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে।












