মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই দাবদাহের চেহারা নিয়েছে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া। সকাল থেকেই চড়া রোদ, সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে কার্যত নাজেহাল সাধারণ মানুষ। এর মধ্যেই খানিকটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিল হাওয়া অফিস। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। যদিও গরম পুরোপুরি কমার সম্ভাবনা এখনই নেই, তবুও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি কিছুটা আরাম দিতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে গরমের দাপট অব্যাহত
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই দিনের বেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের উপরে থাকছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তিও বাড়ছে কয়েকগুণ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং পূর্ব মেদিনীপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।
ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমী বায়ুর জোড়া প্রভাব
উত্তর-পূর্ব বিহারের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে, যার প্রভাব পড়ছে পূর্ব ভারতের আবহাওয়ায়। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ধীরে ধীরে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আরও বিস্তীর্ণ অংশে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মৌসুমী বায়ু দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য বঙ্গোপসাগরের আরও বড় অংশে পৌঁছে যাবে। এর জেরেই উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। পাহাড়ি এলাকায় ধস বা জল জমার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুরুলিয়ায় ৪২ ডিগ্রির দাপট
দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরমের প্রভাব পড়েছে পুরুলিয়ায়। সোমবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ২৬ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। সকালে রোদের তেজে পুড়ছে জেলা, আবার বিকেলের দিকে মেঘ জমে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
স্বস্তি মিলবে, কিন্তু পুরোপুরি নয়
আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী দু’-এক দিনে দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেও গরমের দাপট পুরোপুরি কমবে না। বরং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। তবে কালবৈশাখীর মতো ঝড়-বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কিছুটা নামতে পারে বলেই আশা করছেন সাধারণ মানুষ।
তীব্র গরম ও অস্বস্তিতে হাঁসফাঁস করছে দক্ষিণবঙ্গ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে। মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতিও নজরে রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।











