চা শ্রমিকদের জীবনে নতুন আশার আলো! ডুয়ার্সে শুরু ফার্স্ট ফ্লাশ চা পাতা তোলা, বন্ধ বাগানের আশঙ্কার মাঝেই স্বস্তির ছবি

ডুয়ার্সের গুডহোপ চা বাগানে শুরু হল ফার্স্ট ফ্লাশ চা পাতা তোলা। বন্ধ বাগানের আশঙ্কার মাঝেই চা শ্রমিকদের জীবনে এল নতুন আশার বার্তা।

একদিকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক চা বাগান, অন্যদিকে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে বহু শ্রমিক পরিবারের। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ডুয়ার্সে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী, মন ভাল করা ছবি—শুরু হয়ে গেল বছরের প্রথম ফার্স্ট ফ্লাশ চা পাতা তোলার কাজ।

দু’টি পাতা এক কুঁড়ির অপেক্ষার অবসান

সবুজ চাদরে মোড়া চা বাগানের মধ্যে ধূপ-ধুনোর গন্ধ, উলুধ্বনির শব্দ আর উৎসবের আমেজ—ডুয়ার্সের চা বলয়ের একাধিক এলাকায় শুরু হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত ফার্স্ট ফ্লাশ চা পাতা তোলা। চা-প্রেমীদের কাছে ‘দু’টি পাতা একটি কুঁড়ি’ মানেই বছরের সেরা চায়ের সূচনা।

গুডহোপ চা বাগানে আশার ছবি

ডামডিম গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গুডহোপ চা বাগানে এই দৃশ্য নজর কাড়ে সকলের। একের পর এক বাগান বন্ধ হওয়ার খবরের মাঝেই এই বাগানে নতুন মরসুমের শুরু চা শ্রমিকদের মনে ফেরায় ভরসা।

পুজোর মধ্য দিয়েই মরসুমের সূচনা

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই কর্মচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে বাগান চত্বর। সেকশন নম্বর C/5-এ দীর্ঘদিনের প্রথা মেনে মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ-ধুনো ও বিশেষ পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় চলতি মরসুমের প্রথম চা পাতা তোলা।

মাথায় বেগ, চোখে স্বপ্ন

পুজো শেষে চা বাগানকে দেবতার আসনে বসিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে মাথায় কাপড়ের বেগ নিয়ে কাজে নামেন শ্রমিকরা। তাঁদের চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল নতুন মরসুম ঘিরে আশা, কাজ পাওয়ার স্বস্তি এবং সংসার চালানোর ভরসা।

কী বলছেন বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকরা

বাগান ম্যানেজার রাকেশ গড় জানান,

“চা বাগানের প্রতি বিশ্বাস ও ভক্তি থেকেই প্রতি বছর পুজোর মাধ্যমে ফার্স্ট ফ্লাশের কাজ শুরু করা হয়।”

অন্যদিকে শ্রমিক অরুণ খাড়িয়া বলেন,

“চারদিকে যখন অনেক চা বাগান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের বাগানে কাজ শুরু হওয়াটা খুব আনন্দের। এতে আমাদের পরিবারগুলোর মনে নতুন আশা এসেছে।”

একাধিক চা বাগান বন্ধ হওয়ার খবরে যখন ডুয়ার্সজুড়ে উদ্বেগ, ঠিক সেই সময় গুডহোপ চা বাগানে শুরু হল ফার্স্ট ফ্লাশ চা পাতা তোলা। পুজো, উলুধ্বনি আর শ্রমিকদের হাসিমুখে নতুন মরসুমের সূচনায় ফিরল আশার আলো।

 

Leave a comment