Janmashtami 2026: শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। আর ২০২৬ সালের জন্মাষ্টমী আরও বিশেষ হয়ে উঠতে চলেছে বলে দাবি জ্যোতিষীদের। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর পর অষ্টমী তিথি ও রোহিণী নক্ষত্রের এমন মিলন ঘটতে চলেছে, যাকে ‘জয়ন্তী যোগ’ বলা হয়। ফলে জন্মাষ্টমীর নিশীথকালীন পুজো ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কবে পালিত হবে ২০২৬-এর জন্মাষ্টমী?
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জন্মাষ্টমীর মূল উৎসব পালিত হবে। অষ্টমী তিথি শুরু হবে ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে এবং তা থাকবে ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত।অর্থাৎ জন্মাষ্টমীর পুজোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাতটি পড়ছে ৩ সেপ্টেম্বর রাত পেরিয়ে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যরাতে।
কখন তৈরি হবে ‘জয়ন্তী যোগ’?
প্রকাশিত জ্যোতিষীয় হিসাব অনুযায়ী, রোহিণী নক্ষত্র শুরু হবে ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে। সেটি থাকবে ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত।এই সময়ের মধ্যেই অষ্টমী তিথিও বর্তমান থাকবে। ফলে ৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যরাত পর্যন্ত অষ্টমী তিথি ও রোহিণী নক্ষত্রের সংযোগ তৈরি হবে।ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সংযোগই ‘জয়ন্তী যোগ’ নামে পরিচিত এবং নিশীথকালে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব পালনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
কৃষ্ণের জন্মলগ্নের সঙ্গে কেন তুলনা করা হয়?
পুরাণ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে, নিশীথকালে রোহিণী নক্ষত্রে এবং বৃষ রাশির প্রভাবে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল২০২৬ সালের জন্মাষ্টমীতে অষ্টমী তিথি ও রোহিণী নক্ষত্রের একই সময়ে উপস্থিতিকে সেই পৌরাণিক জন্মলগ্নের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এই কারণেই এবারের জন্মাষ্টমীকে ভক্তদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জন্মাষ্টমীতে কীভাবে উপবাস করবেন?
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, জন্মাষ্টমীর উপবাস পালনের আগে থেকেই সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। অষ্টমীর দিন সকালে স্নান করে পুজোর সংকল্প নিয়ে উপবাস শুরু করা যেতে পারে।অনেকে সারাদিন উপবাস থেকে নিশীথকালে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব ও পুজোর পর উপবাস ভঙ্গ করেন। তবে শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী উপবাসের নিয়ম মেনে চলাই উচিত।
বাড়িতে জন্মাষ্টমীর পুজোর সহজ নিয়ম
জন্মাষ্টমীর দিন সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে পুজোর সংকল্প নেওয়ার প্রচলন রয়েছে।হাতে জল, চাল, ফুল ও ফল নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে উপবাসের সংকল্প করা যায়। এরপর পুজোর স্থান পরিষ্কার করে সেখানে কৃষ্ণের মূর্তি বা ছবি স্থাপন করা হয়।প্রচলিত কিছু আচারে কালো তিল মেশানো জল ব্যবহার করে মা দেবকীর প্রতীকী ‘সূতিকা গৃহ’ প্রস্তুত করার কথাও বলা হয়েছে। সেখানে মঙ্গল কলস স্থাপন করে শ্রীকৃষ্ণ ও দেবকীর প্রতীকী বিগ্রহ রাখা হয়।
কাদের স্মরণ করে পুজো করা হয়?
জন্মাষ্টমীর পুজোয় শুধু শ্রীকৃষ্ণ নয়, তাঁর জন্ম ও শৈশবের সঙ্গে যুক্ত একাধিক চরিত্রকে স্মরণ করার রীতিও রয়েছে।প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পুজোর সময় দেবকী, বাসুদেব, বলরাম, নন্দ, যশোদা এবং মা লক্ষ্মীকে স্মরণ করা হয়। নিশীথকালে কৃষ্ণের জন্মোৎসব, আরতি ও ভোগ নিবেদনের মাধ্যমে পুজো সম্পন্ন করার রীতি রয়েছে।
‘জয়ন্তী যোগে’ কী ফল পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস?
জ্যোতিষ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জন্মাষ্টমীর নিশীথকালে অষ্টমী তিথি ও রোহিণী নক্ষত্রের মিলন অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই সময় ভক্তিভরে শ্রীকৃষ্ণের পুজো ও প্রার্থনা করলে সংসারে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করা যায়।তবে কোন ব্যক্তির ভাগ্য নিশ্চিতভাবে বদলে যাবে বা নির্দিষ্ট রাশির মানুষ বিশেষ অর্থলাভ করবেন—এমন দাবির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এই বিষয়গুলিকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও জ্যোতিষীয় মত হিসেবেই দেখা উচিত।
২০২৬ সালের জন্মাষ্টমী ঘিরে তৈরি হতে চলেছে বিশেষ জ্যোতিষীয় সংযোগ। প্রচলিত জ্যোতিষমত অনুযায়ী, অষ্টমী তিথির সঙ্গে রোহিণী নক্ষত্রের মিলনেই তৈরি হবে কথিত ‘জয়ন্তী যোগ’। ধর্মীয় বিশ্বাসে এই সময়কে শ্রীকৃষ্ণের জন্মলগ্নের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী পালনের পাশাপাশি উপবাস ও নিশীথকালের পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।













