জাপানে ১৮৯৮ সালের সিভিল কোড অনুযায়ী বিয়ের পর স্বামী ও স্ত্রীকে একই পারিবারিক নাম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। সরকার এখন ‘সিলেকটিভ সারনেম সিস্টেম’ চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে, যার মাধ্যমে দম্পতিরা চাইলে আলাদা পারিবারিক নাম রাখতে পারবেন।
জাপানে বিয়ের পর স্বামী ও স্ত্রীকে একই পারিবারিক নাম গ্রহণ করতে হয়। এই নিয়মটি ১৮৯৮ সালে কার্যকর হওয়া সিভিল কোডের অধীনে চালু হয় এবং এটি প্রায় ১২৫ বছর পুরোনো প্রথা হিসেবে বিবেচিত। আইনের অধীনে দম্পতিদের আইনগতভাবে একটি অভিন্ন পারিবারিক নাম গ্রহণ করতে হয়।
তবে আইনে স্পষ্টভাবে বলা নেই যে শুধু স্ত্রীকেই নাম পরিবর্তন করতে হবে। তবুও জাপানি সমাজে প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নারীরাই বিয়ের পর নিজেদের পৈতৃক নাম ত্যাগ করে স্বামীর পারিবারিক নাম গ্রহণ করেন। এর ফলে বিয়ের পর নারীদের পেশাগত জীবন, প্রফেশনাল ডিগ্রি, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য নথিপত্রে জটিলতা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই আইনের বিরুদ্ধে জাপানে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে এবং একাধিক আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে।
বর্ধিত প্রতিবাদ এবং নারীদের দাবির প্রেক্ষিতে জাপান সরকার আইন পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছে। সরকার বর্তমানে ‘সিলেকটিভ সারনেম সিস্টেম’ নিয়ে বিবেচনা করছে। এই ব্যবস্থায় দম্পতিরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তারা একই নাম ব্যবহার করবেন নাকি নিজেদের পূর্বের পারিবারিক নাম বজায় রাখবেন।
এর অর্থ হতে পারে যে বিয়ের পর আইনগত নথিতে একটি অভিন্ন নাম ব্যবহার করা হবে, তবে ব্যক্তিগত ও পেশাগত নথিপত্রে নারীরা তাদের বিয়ের আগের নাম ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।

জাপানে এই নিয়মকে ‘কুংসে’ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ব্যবস্থায় বিয়ের নিবন্ধনের সময় স্বামী ও স্ত্রীর আলাদা পারিবারিক নাম নিবন্ধন করা যায় না। যদি কোনো দম্পতি আলাদা নাম রাখতে চান, তাহলে তাদের বিয়ে আইনি স্বীকৃতি পায় না।
উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানই একমাত্র দেশ যেখানে এই নিয়ম এত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে জাপানি সমাজে দীর্ঘ সময় ধরে ঐতিহ্যগত পারিবারিক কাঠামো ও নাম ব্যবহারের প্রথা বজায় রয়েছে।
একজন জাপানি অধ্যাপক বলেছেন, একই পারিবারিক নাম গ্রহণের ধারাবাহিকতার কারণে ছোট ও স্বতন্ত্র পারিবারিক নামগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যদি আইন পরিবর্তন না করা হয়, তাহলে অনুমান করা হচ্ছে যে ২৫৩১ সালের মধ্যে জাপানের নাগরিকদের অধিকাংশের পারিবারিক নাম ‘সাতো’র মতো সাধারণ নাম হয়ে যেতে পারে। এতে দেশের পারিবারিক নামের বৈচিত্র্য হ্রাস পেতে পারে এবং সামাজিক পরিচয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
এই আইন নিয়ে জাপানের সুপ্রিম কোর্টে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। আদালত আইনটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করেনি, তবে সরকারকে নতুন আইন তৈরির পরামর্শ দিয়েছে।
এর ফল হিসেবে সরকার একটি মধ্যবর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। সরকারি নথিতে স্বামী ও স্ত্রী একটি অভিন্ন নাম ব্যবহার করবেন, তবে অফিস, ব্যাংক এবং পাসপোর্টের মতো নথিতে নারীরা বিয়ের আগের নাম ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।
জাপানে বড় কোম্পানি এবং নাগরিক সমাজও এই আইনের পরিবর্তনের দাবিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, এই আইন মানবাধিকারবিরোধী এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের অধিকারের লঙ্ঘন।
‘সিলেকটিভ সারনেম সিস্টেম’ চালু হলে নারীরা তাদের নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখতে পারবেন এবং বিয়ের পর তাদের পেশাগত জীবনে কোনো বাধা তৈরি হবে না।












