জোধপুরে ইনস্টাগ্রাম লাইভে বিষপানের চেষ্টা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনফ্লুয়েন্সার; তদন্তে পুলিশ

রাজস্থানের জোধপুরে ৩২ বছর বয়সী এক নারী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইনস্টাগ্রাম লাইভ চলাকালীন বিষপানের চেষ্টা করার পর হাসপাতালে ভর্তি হন। ট্রোলিং, হুমকি, ব্যক্তিগত বিরোধ এবং সম্ভাব্য সাইবার হয়রানির অভিযোগ ঘিরে পুলিশ ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত চালাচ্ছে।

জোধপুরে এক নারী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইনস্টাগ্রাম লাইভ চলাকালীন বিষপান করার চেষ্টা করার পর তাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে জোধপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারী ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। ভিডিওটিতে তিনি পোশাক এবং সামাজিক চিন্তাভাবনা-সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন।

ভিডিওটি প্রকাশের পর তিনি ব্যাপক ট্রোলিংয়ের মুখে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং তার ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি শুধুমাত্র অনলাইন বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি; অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি তাকে হুমকিও দিয়েছিলেন।

৩২ বছর বয়সী ওই ইনফ্লুয়েন্সারের অভিযোগ, ৬ জন পুরুষ ও ২ জন নারীসহ কয়েকজন ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে তাকে বদনাম করার চেষ্টা করছিলেন। তার দাবি, বিরোধটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ছিল না; জমি-সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধ এবং ব্যক্তিগত শত্রুতাও এর সঙ্গে জড়িত ছিল।

জানা গেছে, এর আগেও জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ছিল এবং মারধরের অভিযোগও উঠেছিল।

ইনফ্লুয়েন্সারের দাবি, তাকে গুরুতর হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং তার চরিত্র নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল।

ঘটনার আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তাকে কাঁদতে দেখা যায়। ওই পোস্টগুলিতে তিনি অভিযোগ করেন যে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বদনাম করা হচ্ছে এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে।

একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে অভিযোগ ও ট্রোলিংয়ের মুখে একজন নারীর জন্য সমাজে নিজের সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লাইভে আসেন। লাইভ সম্প্রচারের সময় তিনি তার ওপর চলা কথিত হয়রানি এবং মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেন।

লাইভ ভিডিওতে হাজারো মানুষ যুক্ত ছিলেন। এ সময় তিনি বিষপানের চেষ্টা করেন, যার ফলে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর তাকে দ্রুত জোধপুরের মথুরাদাস মাথুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক দল তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছে।

হাসপাতাল প্রশাসনের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ওই নারীর স্বামী দাবি করেছেন, কিছু স্থানীয় ইনফ্লুয়েন্সার এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য তার স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করছিলেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, হুমকিমূলক বার্তা ও চ্যাট রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে এবং সেগুলোর তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল, যার ফলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, লাইভ ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, আদৌ কোনো ধরনের হুমকি, সাইবার হয়রানি বা সংগঠিত ট্রোলিংয়ের ঘটনা ঘটেছিল কি না।

পুলিশ এ-ও তদন্ত করছে যে বিষয়টি শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিরোধ ছিল, নাকি এর পেছনে পুরোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধও জড়িত ছিল।

 

Leave a comment