শহরের কোলাহল থেকে খুব দূরে না গিয়েও যদি একদিনের জন্য শান্ত, সুন্দর কোনও জায়গায় ঘুরে আসতে চান, তাহলে জোকার পৈলানের স্বামীনারায়ণ মন্দির হতে পারে ভালো গন্তব্য। অসাধারণ পাথরের কাজ, বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণ, সবুজ গাছপালা এবং মনোরম পরিবেশ—সব মিলিয়ে জায়গাটি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। বিশেষ করে জন্মাষ্টমীর সময়ে ভক্তদের কাছে এই মন্দিরের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
প্রায় ২০০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে মন্দির
জোকার পৈলানে অবস্থিত এই শিখরবদ্ধ মন্দিরটি বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তৈরি। প্রায় ২০০ একর জমির উপর গড়ে ওঠা মন্দির চত্বরের বিভিন্ন অংশে দেখা যায় বিশেষ ধরনের স্থাপত্যশৈলী।মন্দির নির্মাণে প্রধানত মার্বেল, রাজস্থানের গোলাপি বেলেপাথর এবং লালপাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পাথরের গায়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ ও স্থাপত্যের নান্দনিকতা দর্শনার্থীদের সহজেই আকৃষ্ট করে।
শুধু মন্দির নয়, পরিবেশও মন ভালো করবে
এই জায়গার অন্যতম আকর্ষণ শুধু মন্দিরের স্থাপত্য নয়। মন্দিরের চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা ও সবুজ পরিবেশ।দিনের আলোয় যেমন পাথরের কারুকাজ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে, তেমনই সন্ধ্যার পর আলো-আঁধারির পরিবেশ মন্দির চত্বরকে আরও সুন্দর করে তোলে। তাই ধর্মীয় দর্শনের পাশাপাশি স্থাপত্য ও শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতেও এখানে আসতে পারেন।
কোন কোন দেবদেবীর পুজো হয়?
মন্দির চত্বরে একাধিক দেবদেবীর আরাধনা করা হয়। এখানে পূজিত হন—
স্বামীনারায়ণ
শ্রী ঘনশ্যাম মহারাজ
শ্রী হরেকৃষ্ণ মহারাজ
রাধা-কৃষ্ণ
সীতা-রাম
হনুমানজি
শিব-পার্বতী
গণেশজি
ফলে জন্মাষ্টমীর আগে বা উৎসবের সময় ভক্তদের কাছে এই মন্দির দর্শনের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।
কবে থেকে সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়?
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পুজার্চনার মাধ্যমে মন্দিরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে কলকাতা ও আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে জায়গাটি পরিচিত হয়ে উঠেছে।সারা বছরই মন্দির দর্শনের সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মন্দির খোলার সময়
দর্শনার্থীদের জন্য মন্দিরটি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খোলা থাকে।
সকাল: ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা
বিকেল: ৪টা থেকে রাত ৮টা
তাই দূর থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এই সময়ের মধ্যেই দর্শনের পরিকল্পনা করা ভালো। উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠানের দিনে সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে সময় জেনে নেওয়া সুবিধাজনক।
কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন?
কলকাতার কাছেই হওয়ায় জোকার পৈলানের এই মন্দিরে সড়কপথে যাওয়া তুলনামূলক সহজ।প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধর্মতলা থেকে নামখানা বা ডায়মন্ড হারবারগামী বাসে চড়ে এই এলাকায় পৌঁছনো যায়। এরপর স্থানীয়ভাবে মন্দিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।জন্মাষ্টমী উপলক্ষে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে ভিড় ও যানজটের কথা মাথায় রেখে হাতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হওয়া ভালো।
জন্মাষ্টমীতে কেন যেতে পারেন?
জন্মাষ্টমী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি হিসেবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় রাধা-কৃষ্ণের মন্দিরগুলিতে ভক্তদের আনাগোনা বাড়ে।জোকার স্বামীনারায়ণ মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের পাশাপাশি একাধিক দেবদেবীর আরাধনা হওয়ায় ধর্মীয় পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে জন্মাষ্টমীর সময়ে এখানে ঘুরে আসতে পারেন। তবে উৎসবের দিনগুলিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি হতে পারে, তাই আগে থেকে যাতায়াত ও দর্শনের পরিকল্পনা করে নেওয়া ভালো।
কলকাতার কাছেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জোকার পৈলানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্বামীনারায়ণ মন্দির। মার্বেল, রাজস্থানের গোলাপি বেলেপাথর ও লালপাথরের নিপুণ কারুকাজে তৈরি এই মন্দিরের স্থাপত্য সহজেই নজর কাড়ে। শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর পাশাপাশি জন্মাষ্টমীর আবহে ধর্মীয় দর্শনের জন্যও ঘুরে আসতে পারেন এই মন্দিরে।










