ডায়াবিটিস শুধু বড়দের রোগ—এই ধারণা এখন আর সত্যি নয়। শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও বাড়ছে জুভেনাইল ডায়াবিটিস বা টাইপ-১ ডায়াবিটিসের প্রকোপ। বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর নিজেই জানিয়েছেন, মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর এই রোগ ধরা পড়েছিল। তাই শিশুদের শরীরে কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি হলে সতর্ক থাকুন
নেওটিয়া ভাগীরথী ওমেন অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের কনসালট্যান্ট পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, শিশুদের ডায়াবিটিসের অন্যতম প্রথম লক্ষণ হল সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা। আগে যেখানে শিশুটি খেলাধুলা বা পড়াশোনায় উৎসাহী ছিল, হঠাৎ করেই যদি সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে, সামান্য কাজেই হাঁপিয়ে যায় কিংবা সারাদিন ঘুমঘুম ভাব থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ইনসুলিনের ঘাটতির কারণে শরীর ঠিকমতো শক্তি তৈরি করতে না পারলেই এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বারবার তেষ্টা পাওয়া ও ঝাপসা দৃষ্টি হতে পারে সতর্কবার্তা
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর অতিরিক্ত জল বের করে দিতে থাকে। ফলে শিশুর বারবার জল খেতে ইচ্ছা করে, মুখ ও গলা শুকিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে চোখে ঝাপসা দেখা, পড়াশোনার সময় অক্ষর পরিষ্কার না দেখা কিংবা মাথাব্যথার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই রক্তে শর্করার পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
ঘন ঘন প্রস্রাব বা রাতে বিছানা ভিজিয়ে ফেলছে? অবহেলা করবেন না
যদি শিশু অস্বাভাবিকভাবে বারবার প্রস্রাব করতে যায়, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারে অথবা অনেকদিন বন্ধ থাকার পর আবার রাতে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে, তাহলে তা ডায়াবিটিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করায় এই সমস্যা দেখা দেয়। তাই এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
মাড়ি থেকে রক্ত, মুখে ঘা ও ত্বকের কালো দাগও ইঙ্গিত দিতে পারে
শুধু তেষ্টা বা প্রস্রাব নয়, ডায়াবিটিসের প্রভাবে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। ফলে দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মুখ বা জিভে বারবার ঘা হওয়া কিংবা দীর্ঘদিন সংক্রমণ না সারার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ঘাড়, গলা, বগল বা শরীরের ভাঁজে কালচে দাগ, ত্বকে র্যাশ বা কালো ছোপও ইনসুলিনের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
পরিবারে ডায়াবিটিস থাকলে বাড়তি নজরদারি জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের কারও ডায়াবিটিস থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যায়। যদিও টাইপ-১ ডায়াবিটিসের নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি, তবুও পারিবারিক ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিবর্তনের উপর নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করার পরীক্ষা করানো উচিত।
শিশুর বারবার তেষ্টা পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঝাপসা দৃষ্টি বা ত্বকে কালো দাগ—এসবই হতে পারে জুভেনাইল ডায়াবিটিসের প্রাথমিক লক্ষণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।













