কালনায় ভবাপাগলার বাৎসরিক পুজোয় ভক্তদের ঢল! নিরাপত্তায় কড়াকড়ি, ফেরিঘাটে ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

পূর্ব বর্ধমানের কালনায় ভবাপাগলার বাৎসরিক পুজোয় লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম। নিরাপত্তার কারণে কালনা ফেরিঘাটে ভারী যান চলাচল বন্ধ, নদীপথে কড়া নজরদারি প্রশাসনের।

বৈশাখের শেষ শনিবার মানেই কালনায় ভবাপাগলার বাৎসরিক পুজোকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুক্রবার রাত থেকেই পূর্ব বর্ধমানের কালনা শহরে শুরু হয়েছে পুণ্যার্থীদের ঢল। ভবার ভবানী মায়ের আশীর্বাদ লাভের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের ভিড়ে কার্যত গমগম করছে মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকা।

৭৬ বছরে পা ভবাপাগলার বাৎসরিক পুজোর

কালনার ঐতিহ্যবাহী ভবাপাগলার মন্দিরে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের শেষ শনিবার অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ পুজো। উদ্যোক্তাদের দাবি, এ বছর এই ধর্মীয় উৎসব ৭৬ বছরে পদার্পণ করেছে। গত ২ মে গ্রহরাজ পুজোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং আগামী ১১ মে পর্যন্ত চলবে একাধিক ধর্মীয় কর্মসূচি।

‘ভবার ভবানী মা’-র আরাধনায় ভক্তদের ভিড়

ভবাপাগলার মন্দিরে মূল আকর্ষণ ‘ভবার ভবানী মা’-র বিশেষ আরাধনা। ভক্তদের বিশ্বাস, এই পুজোয় অংশ নিলে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং মায়ের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। সেই বিশ্বাস থেকেই শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি বিদেশ থেকেও বহু শিষ্য ও অনুগামী কালনায় ভিড় জমিয়েছেন।

মন্দির চত্বরে উৎসবের আবহ

শনিবার সকাল থেকেই কালনার রাস্তাঘাট, ঘাট এলাকা ও মন্দির প্রাঙ্গণে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। দোকানপাট, প্রসাদের স্টল ও ধর্মীয় সামগ্রীর বাজারে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রশাসনের তরফেও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নৌকাডুবির স্মৃতি, তাই বাড়তি সতর্ক প্রশাসন

কয়েক বছর আগে ভবাপাগলার পুজো শেষে কালনা ঘাট থেকে শান্তিপুর ফেরার পথে ভাগীরথী নদীতে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা স্থানীয়দের মনে। তাই এবছর পুজো ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন।

ফেরিঘাটে ভারী যান চলাচল বন্ধ

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কালনা ফেরিঘাট দিয়ে সমস্ত ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ রুখতে লঞ্চ পরিষেবায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। উভয় পাড়ে ব্যারিকেড, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

নদীপথে নজরদারি বাড়াল পুলিশ

ভিড় সামলাতে কালনা ফেরিঘাট এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। নদীপথে যাত্রী চলাচলের উপরও রাখা হচ্ছে বিশেষ নজর। কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের তরফে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পূর্ব বর্ধমানের কালনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাচীন ভবাপাগলার মন্দিরের বাৎসরিক পুজো। লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে গোটা শহরে। নিরাপত্তার স্বার্থে কালনা ফেরিঘাট এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

Leave a comment