আঙুরেও লুকিয়ে রাসায়নিকের ভয়! শুধু জল নয়, এই উপায়ে পরিষ্কার করলেই কমবে কীটনাশকের ঝুঁকি

বাজারের আঙুর শুধু জল দিয়ে ধুলেই কি নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণ জল, বেকিং সোডা ও ভিনিগার ব্যবহার করলে কমতে পারে কীটনাশকের প্রভাব। জানুন আঙুর পরিষ্কারের সঠিক উপায়।

ছোট থেকে বড়—প্রায় সকলেরই পছন্দের ফল আঙুর। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা থেকে শুরু করে পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল এখন প্রায় প্রতিটি বাজারেই সহজলভ্য। তবে চকচকে ও টাটকা দেখতে এই আঙুরের গায়ে যে লুকিয়ে থাকতে পারে ক্ষতিকর রাসায়নিক, তা অনেকেই জানেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার থেকে আনা আঙুর খাওয়ার আগে সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে শরীরে প্রবেশ করতে পারে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ।

গরমে বাড়ছে আঙুরের চাহিদা

গ্রীষ্ম পড়তেই বাজারে মরশুমি ফলের ভিড় বেড়েছে। তার মধ্যেই অন্যতম জনপ্রিয় ফল আঙুর। বসিরহাট-সহ বিভিন্ন এলাকার ফলের দোকানে এখন নানা জাতের আঙুর বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অধিকাংশ আঙুরই বাইরে থেকে আনা হয়, যাতে দীর্ঘদিন টাটকা রাখার জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে।

কীটনাশকের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক বিশেষজ্ঞরা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আঙুর চাষে তুলনামূলক বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সেই রাসায়নিকের কিছু অংশ ফলের গায়ে থেকেই যেতে পারে। নিয়মিত এই ধরনের রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, স্নায়ুর সমস্যা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা বাড়তে পারে।

শুধু জল দিয়ে ধুলে কি যথেষ্ট?

পুষ্টিবিদদের মতে, সাধারণ জল দিয়ে ধুলে আঙুরের উপরিভাগের ধুলো বা ময়লা পরিষ্কার হলেও সব রাসায়নিক দূর হয় না। তাই ফল খাওয়ার আগে কিছু অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

লবণ জলেই মিলতে পারে সমাধান

আঙুর পরিষ্কারের সবচেয়ে সহজ উপায় হল লবণ জল ব্যবহার করা। একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে পরিমাণ মতো লবণ মিশিয়ে আঙুর ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে নিলেই অনেকাংশে দূর হতে পারে ফলের গায়ে থাকা ময়লা ও রাসায়নিকের স্তর।

বেকিং সোডা ও ভিনিগারও কার্যকর

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকিং সোডা মেশানো জলে আঙুর কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলেও ভাল ফল পাওয়া যায়। একইভাবে সমপরিমাণ জল ও ভিনিগার মিশিয়ে তাতে সামান্য লবণ দিয়ে আঙুর ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে কীটনাশকের প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে পরিষ্কারের পর অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

বাড়ছে সচেতনতা, বদলাচ্ছে অভ্যাস

স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে এখন অনেকেই ফল পরিষ্কার করার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের খাবারে ফল রাখার আগে রাসায়নিকমুক্ত করার দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছেন অভিভাবকরা। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য সতর্কতাই ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

গরমে বাজারে আঙুরের চাহিদা বাড়লেও, এই ফলের গায়ে লেগে থাকতে পারে ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জল দিয়ে ধুলে সবসময় তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয় না। লবণ জল, বেকিং সোডা বা ভিনিগার ব্যবহার করলে অনেকটাই কমানো সম্ভব রাসায়নিকের প্রভাব।

 

Leave a comment