১,২০০ কোটি টাকার কালনা-শান্তিপুর সেতু প্রকল্পে জোরকদম! নদীপথে সরেজমিনে পরিদর্শনে বিধায়ক ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা

কালনা-শান্তিপুর সেতু প্রকল্পে নতুন অগ্রগতি। ১,২০০ কোটি টাকার সেতুর সম্ভাব্য এলাকা নদীপথে পরিদর্শন করলেন বিধায়ক ও প্রশাসনের কর্তারা। জানুন প্রকল্পের সর্বশেষ আপডেট, সম্ভাব্য সুবিধা ও পরিকল্পনা।

পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে কালনা-শান্তিপুর সেতু। রাজ্য বাজেটে বিপুল অর্থ বরাদ্দের পর এবার প্রকল্পের সম্ভাব্য এলাকা নদীপথে সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের প্রযুক্তিগত ও ভৌগোলিক বিভিন্ন দিক আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

১,২০০ কোটি টাকার কালনা-শান্তিপুর সেতু প্রকল্পে জোরকদম! নদীপথে সরেজমিনে পরিদর্শনে বিধায়ক ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা
নদীপথে শুরু হল বিস্তারিত সমীক্ষা

কালনা মিলিটারি ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে লঞ্চে করে শুরু হয় পরিদর্শন। এই সফরে কালনার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার, মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন, প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নদীপথে সম্ভাব্য সেতু এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

নদীর স্রোত থেকে ভাঙন—খতিয়ে দেখা হল সব দিক

পরিদর্শনের সময় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ভাগীরথী নদীর গতিপ্রকৃতি, নদীভাঙনের ঝুঁকি এবং সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ ব্যবস্থার উপর। কোথায় অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করা হবে, নদীর স্রোত ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্মাণকাজে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, তা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন আধিকারিকরা। এই সমীক্ষার ভিত্তিতেই পরবর্তী পরিকল্পনা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১,২০০ কোটি টাকার কালনা-শান্তিপুর সেতু প্রকল্পে জোরকদম! নদীপথে সরেজমিনে পরিদর্শনে বিধায়ক ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা
রাজ্য বাজেটের বরাদ্দে প্রকল্পে নতুন গতি

সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে কালনা-শান্তিপুর সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই এলাকাজুড়ে উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর আগে সড়কপথে একাধিকবার সম্ভাব্য এলাকা পরিদর্শন করা হলেও এবার প্রথমবার নদীপথে বিশদ সমীক্ষা চালানো হল। প্রশাসনের মতে, প্রকল্পের বাস্তব চিত্র বোঝার জন্য এই পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দুই জেলার যোগাযোগে আসতে পারে বড় পরিবর্তন

এই সেতু নির্মিত হলে পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলার মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। প্রতিদিনের যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটনের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বহুদিনের এই দাবির বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন দুই জেলার বাসিন্দারা।

১,২০০ কোটি টাকার কালনা-শান্তিপুর সেতু প্রকল্পে জোরকদম! নদীপথে সরেজমিনে পরিদর্শনে বিধায়ক ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা
এলাকাবাসীর উচ্ছ্বাস, দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশা

পরিদর্শন শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিধায়ক। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান এলাকার মানুষ। মিষ্টিমুখের আয়োজনও করা হয়। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে—এই প্রত্যাশাই ছিল উপস্থিত সাধারণ মানুষের মুখে।

১,২০০ কোটি টাকার কালনা-শান্তিপুর সেতু প্রকল্পে জোরকদম! নদীপথে সরেজমিনে পরিদর্শনে বিধায়ক ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা
ভাগীরথী নদীর উপর প্রস্তাবিত কালনা-শান্তিপুর সেতু নির্মাণের প্রস্তুতিতে আরও একধাপ অগ্রগতি। প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের সম্ভাব্য এলাকা নদীপথে ঘুরে দেখলেন কালনার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার, মহকুমা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে নদীর গতিপ্রকৃতি, সংযোগ রাস্তা এবং ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।

Leave a comment