কমল হাসান রাজ্যসভা সদস্যপদ: ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান ৭১ বছর বয়সে রাজ্যসভা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তাঁর প্রয়াত মায়ের বহু পুরনো স্বপ্ন পূরণ করলেন। কেরালা আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে তিনি জানান, তাঁর মা চাইতেন তিনি বড় হয়ে সরকারি চাকরি করুন। কী, কখন, কোথায়, কেন—এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কমল বলেন, রাজ্যসভা সদস্যপদ গ্রহণের মুহূর্ত তাঁকে শৈশবের সেই কথায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং মুহূর্তটি তাঁকে গভীরভাবে আবেগপ্রবণ করে তোলে।
মায়ের অপূর্ণ ইচ্ছে পূরণে ছেলের দেরিতে পাওয়া সাফল্য
কমল হাসান জানান, তাঁর মা সবসময় চাইতেন অন্তত দশম শ্রেণি পাশ করে তিনি রেলওয়েতে সরকারি চাকরিতে যোগ দিন। শৈশবের সেই কথা দীর্ঘদিন তাঁর মনে দাগ কেটে ছিল।দশকের পর দশক অভিনয়জীবন পার করে অবশেষে রাজ্যসভায় যোগ দিয়ে তিনি অনুভব করেন, মায়ের সেই অপূর্ণ ইচ্ছেটি পূরণ হল। তাঁর কথায়, এই অর্জন তাঁর যেকোনও চলচ্চিত্র পুরস্কারের থেকেও বেশি মূল্যবান।
পাঁচ বছর বয়সে শুরু, তারকা হয়ে ওঠার বিস্ময়কর যাত্রা
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ‘কালাথুর কান্নাম্মা’ চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয়জগতে প্রবেশ করেছিলেন কমল হাসান এবং প্রথম ছবিতেই পান জাতীয় পুরস্কার।এরপর একে একে জাতীয় পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার, তামিলনাড়ু স্টেট অ্যাওয়ার্ড, নন্দী অ্যাওয়ার্ড, পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ—অসংখ্য সম্মান তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে। বহুমুখী প্রতিভার অভিনয়, পরিচালনা ও লেখনী তাঁকে ভারতীয় সিনেমায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
কেরালা সাহিত্য উৎসবে আবেগঘন মুহূর্তের স্বীকারোক্তি
সম্প্রতি কেরালা আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে অভিনেত্রী মঞ্জু ওয়ারিয়ারের সঙ্গে এক কথোপকথনে কমল হাসান তাঁর এই শপথগ্রহণের অভিজ্ঞতার কথা শোনান।তিনি বলেন, রাজ্যসভা সদস্য হিসেবে প্রথম স্বাক্ষর করার মুহূর্তে তাঁর বাবা-মায়ের কথাই মাথায় আসে এবং সেই স্মৃতি তাঁকে আবেগে ভাসিয়ে দেয়।
‘অভিনেতার অবসর দর্শক ঠিক করবে, সিনেমা নয়’
কমল হাসান বলেন, প্রবীণ অভিনেতাদের অবসর নেওয়া উচিত কি না—এ সিদ্ধান্ত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নয়, দর্শকেরা নেবে।তাঁর বিশ্বাস, শিল্পের বয়স হয় না; যতদিন দর্শক ভালোবাসা দেখাবেন, ততদিন শিল্পীরা তাদের দক্ষতা দিয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করে যেতে পারবেন।
৭১ বছর বয়সে রাজ্যসভা সদস্যপদ গ্রহণ করে মায়ের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করলেন কমল হাসান। ছোটবেলায় তাঁর মা চাইতেন তিনি সরকারি চাকরি করুন। শপথগ্রহণের মুহূর্তে সেই স্মৃতি মনে পড়তেই চোখ ভিজে ওঠে অভিনেতার। তিনি বলেন, এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে গর্বের অর্জন।













