জন্মদিন মানেই আনন্দ, উদযাপন আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্ত। কিন্তু বলিউড অভিনেতা কমল সদনার জীবনে ১৯৯০ সালের ২১ অক্টোবর হয়ে উঠেছিল এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন। ২০তম জন্মদিনের দিনই নিজের পরিবারের তিন প্রিয় মানুষকে হারান তিনি। যে ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় তাঁর জীবন, সেই মর্মান্তিক স্মৃতি আজও তাঁর জীবনের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়।
![]()
জন্মদিনের আনন্দ মুহূর্তেই বদলে যায় শোকে
কমল সদনা জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭০ সালের ২১ অক্টোবর মুম্বইয়ে। তাঁর বাবা ব্রিজ সদনা ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক। মা সাইদা খান ছিলেন অভিনেত্রী। সিনেমার সঙ্গে যুক্ত পরিবারেই বেড়ে ওঠা কমলেরও আগ্রহ ছিল অভিনয় ও চলচ্চিত্র নির্মাণে।কিন্তু ১৯৯০ সালের ২১ অক্টোবর তাঁর জীবনে ঘটে যায় এমন এক ঘটনা, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া সহজ নয়। জন্মদিনের দিন পরিবারের সঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ভয়াবহ গুলিচালনার শিকার হন তিনি। আনন্দের দিন মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় শোকের দিনে।
বাবার গুলিতে মৃত্যু মা ও বোনের, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন কমল
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সালের ওই দিনে কমলের বাবা ব্রিজ সদনা নিজের লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে তাঁর স্ত্রী সাইদা খান ও মেয়ে নম্রতাকে গুলি করেন। কমলকেও লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সেই গুলি তাঁর ঘাড় ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। গুরুতর বিপদের মুখেও প্রাণে বেঁচে যান অভিনেতা।এরপর ব্রিজ সদনা নিজেকেও গুলি করে আত্মহত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একের পর এক এই মর্মান্তিক ঘটনায় কমল তাঁর মা, বোন ও বাবাকে হারান। মাত্র ২০ বছর বয়সে এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়া তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
‘বেখুড়ি’ দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ
ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে কমল সদনা অভিনয় জগতে নিজের কেরিয়ার গড়ে তোলেন। ১৯৯২ সালে কাজলের বিপরীতে ‘বেখুড়ি’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এই ছবির মাধ্যমেই কাজলেরও অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু হয়।এরপর ১৯৯৩ সালে দিব্যা ভারতীর সঙ্গে ‘রং’ ছবিতে অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি পান কমল। ছবিটি দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় তাঁর কেরিয়ারেও নতুন গতি আসে।
![]()
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও পরিচিতি
‘রং’-এর পর কমল সদনাকে ‘বালি উমর কো সালাম’ এবং ‘হাম সব চোর হ্যায়’-এর মতো ছবিতে দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনার দিকেও মন দেন তিনি।২০০৫ সালে ‘করকাশ’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় পা রাখেন কমল। পরে ‘ভিক্টোরিয়া নং ২০৩’-এর রিমেক পরিচালনা করেন। ২০১৪ সালে ‘রোয়ার: টাইগার্স অফ দ্য সুন্দরবনস’ ছবির চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে পরিবর্তন
কমল সদনার ব্যক্তিগত জীবনেও একাধিক পরিবর্তন এসেছে। ২০০০ সালে মেকআপ আর্টিস্ট লিসা জনকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ২১ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।
![]()
বলিউড অভিনেতা কমল সদনার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক মর্মান্তিক অধ্যায়। ১৯৯০ সালের ২১ অক্টোবর, তাঁর ২০তম জন্মদিনে পরিবারের উপর নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। বাবার গুলিতে প্রাণ হারান তাঁর মা সাইদা খান ও বোন। কমলকেও লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যা তাঁর ঘাড় ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। পরে তাঁর বাবাও আত্মহত্যা করেন। সেই ট্র্যাজেডি পেরিয়ে অভিনয় ও পরিচালনার জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন কমল।








