কর্নাটকে দপ্তর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষে মন্ত্রী রামলিঙ্গা রেড্ডির পদত্যাগ

কর্নাটকে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর দপ্তর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের জেরে মন্ত্রী রামলিঙ্গা রেড্ডি পদত্যাগ করেছেন। বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর না পেয়ে তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও কংগ্রেস দলে থাকার কথা জানিয়েছেন।

কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর দপ্তর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। মন্ত্রী রামলিঙ্গা রেড্ডি পছন্দের দপ্তর না পাওয়ায় মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন, যদিও তিনি কংগ্রেস দলেই থাকার কথা জানিয়েছেন।

রামলিঙ্গা রেড্ডি মন্ত্রিসভায় বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে জলসম্পদ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে তিনি মন্ত্রিপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কংগ্রেস দল থেকে পদত্যাগ করছেন না।

মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রেড্ডি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও কোনো পদ দাবি করেননি, কিন্তু বর্তমান দপ্তর বণ্টনে তিনি সন্তুষ্ট নন।

রামলিঙ্গা রেড্ডি বলেন, তিনি গত ৫৩ বছর ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এবং একাধিক মুখ্যমন্ত্রীর আমলে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি সবসময় দলের জন্য কাজ করেছেন এবং ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে সংগঠনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

তাঁর পদত্যাগকে কর্নাটক কংগ্রেসে বাড়তে থাকা অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র এবং পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দপ্তর বণ্টন নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই রামলিঙ্গা রেড্ডি অসন্তোষ প্রকাশ করে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ২০২৩ সালে দেওয়া একটি কথিত আশ্বাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে ভবিষ্যতের মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় তাঁকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

তবে চূড়ান্ত বণ্টনে ওই দপ্তর অন্য এক মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ১৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। এই সিদ্ধান্তের পর সরকারের অভ্যন্তরে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়।

মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাছে অর্থ, মন্ত্রিসভা বিষয়ক, কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার, গোয়েন্দা বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রেখেছেন, যার ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

উপমুখ্যমন্ত্রী জি. পরমেশ্বরকে রাজস্ব ও ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খাড়গে পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র দপ্তর (গোয়েন্দা শাখা বাদে), তথ্যপ্রযুক্তি এবং ই-গভর্ন্যান্সের দায়িত্ব।

অন্যদিকে সতীশ জারকিহোলিকে গণপূর্ত দপ্তর, এমবি পাটিলকে শিল্প দপ্তর, কে. জে. জর্জকে বিদ্যুৎ ও পর্যটন এবং ইউ. টি. খাদারকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কৃষ্ণা বাইরে গৌড়াকে গ্রেটার বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর এবং যতীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়াকে নগর উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দপ্তর বণ্টনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ছেলে প্রিয়াঙ্ক খাড়গেকে স্বরাষ্ট্র ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে দপ্তরের ভারসাম্য নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের জল্পনাও তৈরি হয়েছে।

কর্নাটকে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর খুব বেশি সময় না গেলেও মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর উদ্ভূত এই পরিস্থিতি দলের জন্য একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দপ্তর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ বড় দল বা জোট সরকারের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নয়, তবে সময়মতো তা সমাধান না হলে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিরোধের কথা অস্বীকার করা হয়েছে, যদিও পদত্যাগ এবং অসন্তোষের ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

রামলিঙ্গা রেড্ডির পদত্যাগকে কংগ্রেস সরকারের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা অসন্তোষের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধ আরও বাড়লে তা ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভার স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের অভ্যন্তরে ঐক্য বজায় রাখতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব এড়াতে কংগ্রেস নেতৃত্বকে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

 

Leave a comment