কেরলে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর কাজ শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 9 এবং 11 ডিসেম্বর দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যখন 13 ডিসেম্বর ভোট গণনা করা হবে।
কেরল নির্বাচন: কেরলে স্থানীয় নির্বাচন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং এর জন্য প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে যে পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, যেখানে ব্যালট লেবেলও জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজ্যে দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার ভোট 9 ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয় দফার ভোট 11 ডিসেম্বর হবে। 13 ডিসেম্বর ভোট গণনার দিন নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই সমগ্র রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কার্যকর হয়েছে।
এইবারের নির্বাচন এই কারণেও গুরুত্বপূর্ণ যে রাজ্যের 1200টি স্থানীয় সংস্থার মধ্যে 1199টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শুধুমাত্র একটি সংস্থা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং জেলা প্রশাসন উভয়ই একসঙ্গে নিশ্চিত করছে যে সমস্ত প্রস্তুতি সময়মতো এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক।
পোস্টাল ব্যালট বিতরণের অগ্রগতি
তিরুঅনন্তপুরমে জেলা কালেক্টর অনু কুমারীর কাছে সরকারি কেন্দ্রীয় মুদ্রণালয়ে মুদ্রণ অধিকর্তা আমির সি.এ. দ্বারা পোস্টাল ব্যালট এবং ব্যালট লেবেলের প্রথম চালান প্রতীকীভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালটের সময়মতো মুদ্রণ এবং বিতরণ অপরিহার্য, কারণ সরকারি কর্মচারী, নিরাপত্তা কর্মী, প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষ শ্রেণীর ভোটাররা এই ব্যালটের মাধ্যমেই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
কালেক্টর অনু কুমারীর মতে, ইডুক্কি জেলার জন্য ব্যালট ছাপানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। তিরুঅনন্তপুরমের জন্যও এই কাজটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই জেলা প্রশাসন সমস্ত ব্যালট পেয়ে যাবে। তিনি বলেছেন যে সমস্ত দল কোনো বাধা ছাড়াই কাজ করছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এসআইআর (SIR) সম্পর্কিত কাজও সমান্তরালভাবে মসৃণভাবে চলছে।
মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী দলগুলির চ্যালেঞ্জ
কালেক্টর আরও জানিয়েছেন যে ক্ষেত্র-ভিত্তিক বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) দের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ করেন এবং ভোটার তালিকা আপডেট করার কাজ করেন। যেহেতু এই কাজটি সময়সীমা দ্বারা আবদ্ধ, তাই তাদের উপর যথেষ্ট চাপ থাকে। এইবার কেরলে স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনও এর পাশাপাশি চলছে, যার ফলে কাজের চাপ দ্বিগুণ হয়েছে।
অনু কুমারী জানিয়েছেন যে বিএলওরা বিএলএ (বুথ লেভেল এজেন্ট) এবং অন্যান্য এজেন্টদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি, কারণ অনেক এজেন্ট নতুন ছিলেন বা উপলব্ধ ছিলেন না। এর ফলে ভোটার শনাক্তকরণ এবং ফর্ম বিতরণে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও, প্রশাসনের দলগুলি 92 শতাংশ ফর্ম সফলভাবে বিতরণ করেছে। মাত্র আট শতাংশ এমন ব্যক্তি ছিলেন যাদের ঠিকানা যাচাই করা যায়নি।
ভোটার তালিকা আপডেটের প্রক্রিয়া
ত্রিবান্দ্রাম জেলা প্রশাসন বাসিন্দাদের ভোটার তালিকায় যেকোনো ত্রুটি সংশোধন করতে এবং তাদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য সক্রিয়ভাবে অনুপ্রাণিত করছে। অনেক জায়গায় এমন লোক পাওয়া গেছে যাদের তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল বা যাদের ঠিকানা পরিবর্তিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন আবাসিক সমিতি এবং ফ্ল্যাট অ্যাসোসিয়েশনগুলির সাথে যোগাযোগ করে সমন্বয় স্থাপন করেছে।
এই প্রক্রিয়ায় কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অনেক শিক্ষার্থী বিএলওদের সাথে মিলে ফর্ম বিতরণ এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। এই সহযোগিতা প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় স্বস্তি প্রমাণ হচ্ছে, বিশেষত যখন অনেক কর্মচারী দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কমিশনের কৌশল
নির্বাচন কমিশন এবার প্রযুক্তিগত এবং ব্যবস্থাপনাগত স্তরে বেশ কিছু উন্নতি বাস্তবায়ন করেছে যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে। পোস্টাল ব্যালটের সময়মতো মুদ্রণ, কেন্দ্র-ভিত্তিক মুদ্রণালয় থেকে নিরাপদ বিতরণ এবং জেলা প্রশাসন কর্তৃক পর্যবেক্ষণ এই প্রক্রিয়ার প্রধান ধাপ।
রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কমিশন নিশ্চিত করছে যে কোনো প্রকার সরকারি সম্পদ প্রচার বা নির্বাচনী সুবিধার জন্য ব্যবহার না হয়।
আসন্ন স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন নাগরিকদের স্থানীয় চাহিদা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই নির্বাচন কমিশন ভোটারদের কাছে আবেদন জানিয়েছে যে তারা 9 এবং 11 ডিসেম্বর তাদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে ভোট দিন। নির্বাচন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমস্ত প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।









