ভোটের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যে। শহুরে এলাকায় ভোটদানের সুবিধা বাড়াতে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলার ৭৮টি বহুতল আবাসনে পৃথক বুথ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে প্রতি বুথে ভোটারের সংখ্যা সীমিত রাখতেই এই উদ্যোগ।
বহুতলে বুথ তৈরির ভাবনা কেন?
নির্বাচন কমিশন প্রতি বুথে সর্বোচ্চ ১,২০০ ভোটার রাখার নীতি অনুসরণ করছে। কিন্তু কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বহু বহুতলে ৪০০ থেকে ১,০০০ জন পর্যন্ত ভোটার বসবাস করেন। ফলে ভোটের দিনে অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে আবাসনের মধ্যেই বুথ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সিইও দপ্তর।উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত পর্যালোচনা হবে।
বুথ সংখ্যা বাড়তে পারে ৯৪ হাজারে
বর্তমানে রাজ্যে মোট বুথের সংখ্যা ৮০,৬৮১। কমিশনের নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হলে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯৪ হাজারে পৌঁছতে পারে। তবে ভোটার তালিকার চূড়ান্ত সংশোধনের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি।‘সার’ প্রক্রিয়ায় খসড়া তালিকা থেকে ইতিমধ্যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় আরও নাম বাদ পড়লে বুথের সম্ভাব্য সংখ্যা কিছুটা কমতেও পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।
৮,৫০৫ গ্রুপ–বি কর্মী নিয়ে জল্পনা
এদিকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে ৮,৫০৫ জন গ্রুপ–বি কর্মীর বায়োডেটা পাঠাতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। যদিও এই তালিকা নিয়ে সিইও দপ্তরে কিছু প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।দিল্লি সফর শেষে সিইও মনোজ আগরওয়াল রাজ্যে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার থেকে ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হবে। আদালতের নির্দেশ মেনে অনেক কর্মী ইতিমধ্যে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও) দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন। তবে তাঁদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনও স্পষ্ট নয়।
শুনানি ও স্ক্রুটিনির সময়সীমা
কমিশনের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী শনিবারের মধ্যেই শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্ক্রুটিনি সম্পূর্ণ করতে হবে। ফলে প্রশাসনিক স্তরে এখন তৎপরতা তুঙ্গে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে কলকাতা ও আশপাশের জেলাগুলির ৭৮টি বেসরকারি আবাসন ও বহুতলে পৃথক বুথ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দপ্তর। একই সঙ্গে বুথ সংখ্যা ৯৪ হাজারে পৌঁছতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।








