বাড়ি ভাঙার রাবিশে পুকুর ভরাট! পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর আবেদন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের

কলকাতায় বাড়ি ভাঙার রাবিশ পুকুর ও জলাভূমি ভরাটে ব্যবহার হচ্ছে। এই অপব্যবহার বন্ধে পুলিশকে কড়া নজরদারির অনুরোধ জানিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বিস্তারিত পড়ুন।

শহরে বাড়ি ভাঙার পরে তৈরি হওয়া বিপুল পরিমাণ নির্মাণ বর্জ্যের অপব্যবহার রুখতে উদ্যোগী হল প্রশাসন। পুকুর ও জলাভূমি ভরাটে রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশকে কড়া নজরদারির অনুরোধ জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র Firhad Hakim। পরিবেশ দূষণ রোধ সংক্রান্ত এক বৈঠকে এই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাড়ি ভাঙার রাবিশে পুকুর ভরাট! পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর আবেদন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের
রাবিশ লরির উপর নজরদারির আবেদন

কলকাতা পুরসভায় পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন Kolkata Police–এর কয়েক জন কর্তা। সেই বৈঠকেই মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, বাড়ি ভাঙার পরে যে রাবিশ লরিতে করে নিয়ে যাওয়া হয়, সেগুলির গতিবিধির উপর কড়া নজরদারি প্রয়োজন। তাঁর মতে, এই সব লরি যেন নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজারহাটে রয়েছে রাবিশ প্রক্রিয়াকরণ কারখানা

নির্মাণ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য রাজারহাটের পাথুরিয়াঘাটায় পাঁচ একর জমিতে একটি বিশেষ কারখানা রয়েছে। এই কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে একটি বেসরকারি সংস্থা। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন নির্মাণ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা রয়েছে, যা বছরে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

বাড়ি ভাঙার রাবিশে পুকুর ভরাট! পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর আবেদন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের
বাস্তবে অনেক কম বর্জ্য পৌঁছচ্ছে

যদিও বাস্তবে ওই কারখানায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বর্জ্য পৌঁছচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে সেখানে মাত্র প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টন নির্মাণ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে। অভিযোগ, অধিকাংশ রাবিশ লরি শহরতলির নিচু জমি উঁচু করা বা পুকুর ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে।

খরচের পার্থক্য বড় সমস্যা

নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজারহাটে বর্জ্য পাঠাতে খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেকেই সস্তা বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। একটি দোতলা বাড়ি ভাঙার পরে সেই বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পাঠাতে প্রায় ৪৮ হাজার টাকা খরচ হতে পারে, যেখানে স্থানীয় লরিতে সরাতে খরচ হয় মাত্র প্রায় ১০ হাজার টাকা। এই খরচের ফারাকই অবৈধ রাবিশ ফেলার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বাড়ি ভাঙার রাবিশে পুকুর ভরাট! পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর আবেদন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের
কলকাতায় পুরোনো বাড়ি ভেঙে তৈরি হওয়া নির্মাণ বর্জ্য বা রাবিশ অবৈধভাবে পুকুর ও জলাভূমি ভরাটে ব্যবহার হচ্ছে—এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই প্রবণতা বন্ধ করতে কড়া পুলিশি নজরদারির আবেদন জানালেন কলকাতার মেয়র Firhad Hakim।

Leave a comment