কলকাতা হাইকোর্টে শুক্রবার একটি অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন অসুস্থ বাবার সঙ্গে শেষ দেখা করার অনুমতি চেয়ে বড় মেয়ের পক্ষ থেকে দায়ের করা রিট শুনানি চলছিল। SEO কিওয়ার্ড: কলকাতা হাইকোর্ট মামলা: ঠিক সেই মুহূর্তেই আদালতকে জানানো হয়, বাবা আর বেঁচে নেই। উত্তর ২৪ পরগনার এই মামলায় দুই বোনের দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব আদালতের সামনে আসে। পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বদল ঘটায় বিচারপতি মামলাটি খারিজ করেন, কারণ আবেদনকারীর চাওয়া আর পূরণ করা সম্ভব নয়।

শেষ দেখাকে কেন্দ্র করে শুরু বিবাদ
বড় মেয়ে আদালতে জানিয়েছিলেন যে গুরুতর অসুস্থ বাবার সঙ্গে তাঁকে দেখা করতে দিচ্ছে না ছোট বোন। বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। তাঁর অনুযোগ—ছোট বোন বাবার চিকিৎসা ও দেখাশোনা নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের দূরে রাখছেন।অন্যদিকে ছোট বোন দাবি করেন, বাবার স্নায়বিক অবস্থা খুবই নাজুক, চিকিৎসকের পরামর্শেই বাইরের লোকজন—এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও—অধিক সময় দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

হাইকোর্টে জরুরি শুনানি, কিন্তু মাঝপথেই আসে দুঃসংবাদ
বৃহস্পতিবার রাতে গুরুতর অবস্থায় বাবাকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বড় মেয়ের আইনজীবী হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন জানালে বিচারপতি তা গ্রহণ করেন। শুক্রবার শুনানি শুরু হতেই দুই বোনের যুক্তি-প্রতিযুক্তি নিয়ে আলোচনায় নামেন বিচারপতি।কিন্তু ঠিক সেই সময়ই হাসপাতালের তরফে আসে গুরুতর খবর—বৃদ্ধ আর নেই। আদালত অবাক হয়ে যায় পরিস্থিতির হঠাৎ বদলে যাওয়ায়। আবেদনকারীর শেষ দেখা চাওয়া অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

‘মামলার উদ্দেশ্যই পূরণযোগ্য নয়’—হাইকোর্ট
বাবার মৃত্যুর খবর আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছনোর পর বিচারপতি বলেন, যে অধিকার চেয়ে আবেদন করা হয়েছে, তার ভিত্তি আর রইল না। তাই মামলাটি আইনের চোখে টিকে থাকার মতো নয়।তিনি আরও জানান, পারিবারিক বিবাদে আইনি সমাধান খোঁজা ভুল নয়, তবে সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতাই জরুরি।
দুই বোনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন, আদালতের নরম বার্তা
আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে দীর্ঘদিন ধরে দুই বোনের মধ্যে মনোমালিন্য রয়েছে। বাবার চিকিৎসা, অর্থনৈতিক দায়িত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতভেদ থেকেই দ্বন্দ্ব বাড়ছিল।বিচারপতি মন্তব্য করেন, বাবার মৃত্যুর পর এখন পরিস্থিতি আরও বেশি সংবেদনশীল। আইনের বাইরে গিয়ে অন্তত এই মুহূর্তে দুই বোনের উচিত পারস্পরিক সহায়তা ও সমর্থন করা।

অসুস্থ বাবার সঙ্গে দেখা করার অধিকার চেয়ে বড় মেয়ের করা জরুরি আবেদনই শুনছিল আদালত। সেই শুনানি চলাকালীন খবর আসে বাবার মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় মামলাটিকে অপ্রাসঙ্গিক বলে খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বাবার শেষ দেখাকে কেন্দ্র করে দুই বোনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।








