মৃত্যুর পর প্রিয়জনের শেষকৃত্যের আগে আর দৌড়ঝাঁপ নয়। এবার বাড়িতেই স্বল্প সময়ের জন্য দেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করছে কলকাতা পুরসভা। শহরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা মাথায় রেখে চালু হচ্ছে ভ্রাম্যমান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শবাধার পরিষেবা।

তপসিয়া নয়, এবার বাড়ির দোরগোড়ায় শব সংরক্ষণ
এতদিন মৃতদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজনে পরিজনদের ভরসা ছিল তপসিয়ার পিস ওয়ার্ল্ড। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে পৌঁছনো ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নতুন পরিষেবায় প্রয়োজনে বাড়িতেই রাখা যাবে প্রিয়জনের দেহ, যা শহরবাসীর জন্য বড় স্বস্তি।
প্রবাসী সন্তানদের কথা ভেবেই এই উদ্যোগ
কলকাতার বহু পরিবারের সন্তান বা নিকট আত্মীয় কর্মসূত্রে দেশের বাইরে কিংবা ভিন রাজ্যে থাকেন। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁদের ফিরতে সময় লাগে দু’-তিন দিন। সেই সময় পর্যন্ত দেহ সংরক্ষণের জন্য এই পরিষেবা কার্যকর ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে পুরসভা।

কেওড়াতলা শ্মশানে আনুষ্ঠানিক সূচনা
শনিবার দুপুরে কালীঘাটের কেওড়াতলা শ্মশানে এই ভ্রাম্যমান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শবাধারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাসবিহারীর বিধায়ক ও উদ্যান বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার-সহ পুরসভার শীর্ষ কর্তারা।
বিধায়ক তহবিলেই পরিষেবা, আপাতত একটি গাড়ি
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবাশিস কুমারের বিধায়ক তহবিলের অর্থে এই পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, আপাতত একটি ভ্রাম্যমান শবাধার গাড়ি দিয়ে পরিষেবা শুরু হচ্ছে। ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়লে গাড়ির সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
আগের বিকল্প বন্ধ, নতুন পরিষেবায় ভরসা পুরসভার
এর আগে বউবাজারের বো ব্যারাক ও রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের পিস হাভেনে স্বল্প সময়ের জন্য দেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ। ফলে শহরবাসী পুরোপুরি তপসিয়ার পিস ওয়ার্ল্ডের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। নতুন এই পরিষেবায় সেই একচেটিয়া নির্ভরতা কমবে বলেই আশাবাদী পুর কর্তারা।
শহরবাসীর কথা মাথায় রেখে বাড়িতেই স্বল্প সময়ের জন্য মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করল কলকাতা পুরসভা। তপসিয়ার পিস ওয়ার্ল্ডে আর ছুটতে হবে না। শনিবার কেওড়াতলা শ্মশানে আনুষ্ঠানিক সূচনা হল ভ্রাম্যমান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শবাধার পরিষেবার।












