কলকাতা পুরসভা কুকুর রেজিস্ট্রেশন: শহরে পোষা কুকুরের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ বাসিন্দা নিয়ম মানছেন না—ফলে সামনে এসেছে মাত্র ২৪৭টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কুকুরের তথ্য। কলকাতা পুরসভা জানাচ্ছে, নিয়মভঙ্গের ফলে রাজস্ব ক্ষতি থেকে শুরু করে অভিযোগের ভিত্তিতে মালিক সনাক্তকরণ—সব ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়ছে। বুধবার পুরসভা, প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং পুলিশের যৌথ বৈঠকে কড়া নজরদারি ও সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাসিন্দারা পাল্টা দাবি করেছেন—নিয়ম প্রচারে ব্যর্থতার দায় পুরসভারই।

লাইসেন্সহীন কুকুরে বাড়ছে প্রশাসনিক জটিলতা
কলকাতায় পোষা কুকুরের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ পরিবার সেই নিয়ম মানছেন না। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারা শহরে নথিভুক্ত কুকুরের সংখ্যা মাত্র ২৪৭। এর ফলে রাজস্বে ঘাটতি বাড়ছে, পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে পোষ্যের মালিককে সনাক্ত করতেও সমস্যায় পড়ছে পুলিশ।পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অনেক বাসিন্দা দাবি করেন, রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক—এই তথ্য প্রচার করতে ব্যর্থ হয়েছে পুরসভা।
অবৈধভাবে কুকুর রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি, বিপাকে প্রশাসন
প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও পুরসভার মতে, লাইসেন্স ছাড়া কুকুর পালনের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। টিকাকরণ, স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও পরিচয়পত্র ছাড়া কুকুর রাখার কারণে প্রতিবেশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ নিতে গিয়ে মালিকের পরিচয় পেতে নাজেহাল হয়।এই পরিস্থিতিতে পুরসভা বৃহত্তর প্রচার অভিযান শুরু করতে চলেছে। শহরজুড়ে ওয়ার্ডভিত্তিক বিশেষ ক্যাম্প হবে, যেখানে লাইসেন্স প্রক্রিয়া, টিকাকরণ ও পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হবে।

বিশেষ কমিটি গঠন, শুরু stricter নজরদারি
সম্প্রতি পুরসভা, প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও কলকাতা পুলিশের যৌথ বৈঠকে একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটি প্রতিটি ওয়ার্ডে নজরদারি চালাবে এবং পোষ্য মালিকদের সচেতন করবে।লাইসেন্স করতে হলে বছরে দিতে হয় ১৫০ টাকা। পুরসভার সদর দপ্তর ছাড়াও অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের সুবিধা রয়েছে। কর্তারা জানিয়েছেন—এরপর থেকে রাস্তায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন পোষ্য নিয়ে বেরোলে কুকুরটিকে পুরসভার হেফাজতে নেওয়া হবে।
আইনগত ব্যবস্থা আরও কঠোর, মালিকদের সতর্কবার্তা
কলকাতা পুরসভা আইনের ৫২১ ধারায় বলা আছে—বাড়িতে থাকা প্রতিটি কুকুরের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। নিয়ম না মানলে দুই ধরনের মামলা হতে পারে—কুকুর কেউকে কামড়ালে ফৌজদারি অভিযোগলাইসেন্স না করায় পৃথক মামলাপরিচয়পত্র না থাকলে পোষ্য হারালে থানায় অভিযোগও নথিভুক্ত হয় না—ফলে উদ্ধার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে দাঁড়ায়।

অধিকারকর্মীদের মত: কড়াকড়ি জরুরি, দায়িত্ব আরও বেশি পুরসভার
কুকুর-অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন কাজ করা সুমনা চৌধুরী মনে করেন, পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক হলে শহরের সারমেয়-সংক্রান্ত বহু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে মালিকানা নেই এমন কুকুরদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে পুরসভাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।তিনি বলেন, শহরে পোষ্য হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ যেমন বাড়ছে, তেমনই পরিচয়পত্র না থাকায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে বিপাকে পড়তে হয়।

কলকাতায় পোষা কুকুরের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হলেও মাত্র ২৪৭টি কুকুর নথিভুক্ত হয়েছে—এমনই তথ্য পুরসভার। নিয়ম না মানায় রাজস্বে ঘাটতি ও প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ছে। বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রচারের অভাবেই অনেকেই নিয়ম জানতে পারেন না। পুরসভা এবার কঠোর পদক্ষেপ এবং সচেতনতা অভিযানে নামছে।











