পলি আর হিঞ্জ জ়োনে বাড়ছে বিপদ: ভূমিকম্পে সবচেয়ে ঝুঁকিতে কলকাতা-সল্টলেক-নিউটাউন

পলি আর হিঞ্জ জ়োনে বাড়ছে বিপদ: ভূমিকম্পে সবচেয়ে ঝুঁকিতে কলকাতা-সল্টলেক-নিউটাউন

শুক্রবার সকালে ঢাকার নরসিংদিতে সৃষ্ট ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কলকাতা, সল্টলেক ও নিউ টাউন। SEO Keyword: ভূমিকম্প ঝুঁকি: ভূগোলবিদদের মতে, দক্ষিণবঙ্গের মাটি পলিতে গঠিত হওয়ায় কম্পনের সময় ‘লিকুয়েফ্যাকশন’ প্রক্রিয়া তীব্রতা বাড়ায়। ভূগর্ভের পলিমাটির পুরু স্তর, হিঞ্জ জ়োনের অস্থিতিশীল গঠন এবং সিসমিক জ়োন-থ্রিতে অবস্থান—এই সব মিলেই মহানগর-সহ আশপাশের অঞ্চল উল্লেখযোগ্য বিপদের মুখে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

দক্ষিণবঙ্গের ভূগর্ভের গঠনেই ভয় বাড়ছে

দক্ষিণবঙ্গের বৃহৎ অংশ পুরু পলিমাটি দিয়ে গঠিত। কলকাতা, সল্টলেক ও নিউ টাউনের নীচে সাড়ে সাত কিলোমিটারেরও বেশি পলিমাটি রয়েছে। কম্পনের সময় এই পলিমাটি তরলের মতো আচরণ করে—যাকে বিজ্ঞানীরা ‘লিকুয়েফ্যাকশন’ বলেন। এতে কম্পনের তীব্রতা কমে না, বরং আরও বৃদ্ধি পায়।এই কারণেই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও এই অঞ্চলে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেন্দ্রস্থল এই অঞ্চলের নিচে হত এবং মাত্রা ৭-এর বেশি হতো, তা হলে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

হিঞ্জ জ়োন: কলকাতার বাড়তি বিপদের মূল কারণ

দক্ষিণবঙ্গের এক দিকে নরম পলি, অন্য দিকে ছোটনাগপুরের কঠিন শিলা—এই অস্থির সংযোগস্থল তৈরি করেছে ‘হিঞ্জ জ়োন’। ভূবিজ্ঞান অনুযায়ী, এই ধরনের ভূগঠন ভূমিকম্পে খুব দ্রুত নড়াচড়া করে।হিঞ্জ জ়োনের উপস্থিতির ফলে কলকাতা-সহ আশেপাশের এলাকায় কম্পনের অভিঘাত তুলনায় বেশি পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞ জ্যোতির্ময় মল্লিকের মতে, এটাই কলকাতার ভূমিকম্প–ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সিসমিক জ়োন-থ্রি: কেন কলকাতা-সল্টলেক-নিউ টাউন ঝুঁকিপূর্ণ

ভারত সরকার ভূমিকম্পের ঝুঁকি অনুযায়ী দেশকে সিসমিক জ়োনে ভাগ করেছে। কলকাতা, সল্টলেক ও নিউ টাউন রয়েছে জ়োন-থ্রি—অর্থাৎ মাঝারি ঝুঁকির এলাকায়।রিখটার স্কেলে ৫.৫–৬ মাত্রার ভূমিকম্প এই জ়োনে সাধারণ। তবে পলিমাটি ও হিঞ্জ জ়োন থাকার ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

বহুতল বৃদ্ধি বনাম পুরোনো বাড়ি—দুই দিকেই উদ্বেগ

সল্টলেক ও নিউ টাউন পরিকল্পিত শহর হলেও দ্রুত বাড়ছে বহুতলের সংখ্যা। ফলে জনঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকিও।অন্যদিকে উত্তর ও মধ্য কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকাগুলোর পুরোনো, ভগ্নপ্রায় বাড়িগুলি ভূমিকম্পের সময়ে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপর্যয় এড়াতে ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণ নীতির প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।

ঢাকার নরসিংদির ভূমিকম্পে কলকাতা, সল্টলেক ও নিউ টাউনে কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে পুরু পলিমাটি, হিঞ্জ জ়োন এবং মাঝারি মানের সিসমিক জ়োনে থাকার ফলে দক্ষিণবঙ্গ ভূমিকম্পে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। বহুতল বৃদ্ধি ও পুরোনো বাড়ির অবস্থাও চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।

Leave a comment