শহরের রাস্তায় পথ–কুকুরদের খাওয়ানো নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা। আদালতের নির্দেশ মেনে এবং নাগরিক–পশুপ্রেমী সংঘাত কমাতেই কলকাতাজুড়ে ৪৮৭টি নির্দিষ্ট ফিডিং জ়োন চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত জায়গা ও সময় ছাড়া আর কোথাও পথ–কুকুরদের খাওয়ানো যাবে না।
নির্দিষ্ট সময়েই খাওয়ানো যাবে পথ–কুকুর
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন দু’টি নির্দিষ্ট সময়ে ফিডিং জ়োনগুলি খোলা থাকবে।
সকাল ৭টার পর দু’ঘণ্টা
রাত ৭টার পর দু’ঘণ্টা
এই সময়ের মধ্যেই পশুপ্রেমীরা এসে নির্দিষ্ট জায়গায় পথ–কুকুরদের খাবার দিতে পারবেন।
১৪৪ ওয়ার্ডেই চালু হচ্ছে ফিডিং জ়োন
বর্তমানে কলকাতার মোট ১৪৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। পুরসভার সমীক্ষার ভিত্তিতে শহরের যে সব রাস্তায় নিয়মিত পথ–কুকুরদের খাওয়ানো হত, সেখানেই দু’টি করে ফিডিং জ়োন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে একাধিক কুকুরের মধ্যে খাবার নিয়ে ঝামেলা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশেই কড়া সিদ্ধান্ত
পথ–কুকুরদের যত্রতত্র খাওয়ানো নিয়ে একাধিক মামলা ওঠে সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, জনবহুল এলাকায় এলোমেলোভাবে কুকুর খাওয়ানো যাবে না। সেই নির্দেশ মেনেই পুরসভা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।
জনবহুল এলাকা থেকে সরানো হবে কুকুর
বাজার, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জনসমাগমপূর্ণ জায়গা থেকে পথ–কুকুরদের সরিয়ে নিতে পরিবেশবান্ধব আশ্রয়স্থল তৈরির কাজও শুরু হচ্ছে। এই আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলতে ধাপা এলাকায় জমি চিহ্নিত করেছে পুরসভা।
নির্বীজকরণ ও টিকাকরণে জোর
পুরসভার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতায় বর্তমানে প্রায় ৮৪ হাজার পথ–কুকুর রয়েছে। তাদের টিকাকরণ, চিকিৎসা ও নির্বীজকরণের জন্য ধাপার কাছে পুরসভার একটি ডগ পাউন্ড রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ২৫০টি কুকুর রাখা যায়। পাশাপাশি, এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ফাঁকা পদ পূরণের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
অতীন ঘোষের দাবি
কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে শহরে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার কোনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। নিয়ম মেনে নির্বীজকরণ ও টিকাকরণ চালানো হচ্ছে বলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
পথ–কুকুরদের যত্রতত্র খাওয়ানো নিয়ে বিতর্ক ও আদালতের নির্দেশের পর কলকাতা পুরসভা শহরজুড়ে ৪৮৭টি নির্দিষ্ট ফিডিং জ়োন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকবে এই ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সময়েই কুকুরদের খাওয়ানো যাবে।











